Published : 30 Jul 2025, 07:03 PM
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় একটি দোকানঘরে দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলা সাবেক এক বিএনপি নেতার কাছে ‘ভাড়া চাওয়ায়’ মালিককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মাহমুদ ইউনিয়নের সালমদী বাজারে স্থানীয় বিএনপির ওই কার্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান।
নিহত ৫৭ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর হোসেন সালমদী নয়াপাড়া গ্রামের তালেব আলী ভূঁইয়ার ছেলে।
জাহাঙ্গীরের ছেলে তাঁত কারখানার শ্রমিক মো. রাসেল বলেন, “গত বছরের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের কয়েকদিন পর পাশাপাশি তিনটি দোকান একত্র করে স্থানীয় বিএনপির কার্যালয় করেন মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তোতা মিয়া প্রধান। তিনি মাহমুদপুর ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যও ছিলেন।
“কার্যালয়ে মাহমুদপুর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় ব্যানারও সাঁটানো রয়েছে।”
তিনি বলেন, “৫ অগাস্টের কয়েকদিন পর আমাদের কিছু না জানাইয়া এইখানে পার্টি অফিস বানায় তোতা মিয়া ও তার ছেলে-ভাতিজারা। পাশাপাশি বাকি দুইটা দোকান আমার চাচাদের। চাচাদের ভাড়া দিলেও আমাদের কোনো ভাড়া দিচ্ছিল না।
“এ নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে বসলেও তারা কোনো ভাড়া দেয়নি। আমার বাবা ভাড়া চাইতে গেলে তারে পার্টি অফিসের ভেতরেই মাইর-ধইর করে।”
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, “কয়েকমাস আগে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জাহাঙ্গীর হোসেনের দোকানে দলীয় কার্যালয় করেন। দোকানের ভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে বিএনপির ওই কার্যালয়ের ভেতরেই দোকান মালিককে মারধর করা হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
তিনি বলেন, “পুলিশ হাসপাতালে যাওয়ার পর বিষয়টি জেনেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার বিএনপি নেতা তোতা মিয়া প্রধান, তার ছেলে-ভাতিজা ও অনুসারী নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।”
অভিযোগের বিষয়ে তোতা মিয়ার ছেলে খোকন প্রধান বলেন, “জাহাঙ্গীর বিএনপির পার্টি অফিসের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এ নিয়ে তর্কের সময় আব্বা জাহাঙ্গীরকে একটি থাপ্পর দেয়। পরে জাহাঙ্গীরও আব্বার গায়ে হাত তোলেন।
“ওইখানে আরও মানুষ ছিলেন। পরে হাতাহাতির এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর অসুস্থ হয়ে পড়েন।”
নিজেকে বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে খোকন আরও বলেন, “আমরা জাহাঙ্গীরের দোকানের অংশটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলাম। কিন্তু উনি আইসা আজকে খুব হৈ-চৈ করেন।
“উনাকে মারধর করা হয়নি, হাতাহাতির সময় আঘাতে মারা গেছেন।”
নিহত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাহমুদপুর ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানান বিএনপির এ সহযোগী সংগঠনটির ওই ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি হোয়াটস অ্যাপে তাদের ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের কমিটির সদস্যদের একটি তালিকা পাঠান। গত ৪ মার্চ সংগঠনটির আড়াউহাজার উপজেলা শাখার অনুমোদন পাওয়া ওই কমিটির ১৩ নম্বরে রয়েছে জাহাঙ্গীরের নাম। তার নামের পাশে সহসাধারাণ সম্পাদক লেখা রয়েছে।
তবে তার ছেলে মো. রাসেল বলেন, “আব্বু কখনো রাজনৈতিক পদ আছে বলে আমি শুনিনি। তিনি রাজনীতি করতেন না। কেউ ডাকলে যাইতো। তিনি আগে মুদির দোকান চালাতেন। যেখানে এখন বিএনপির অফিস সেখানেই মুদি দোকানটি চালাতেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা বিনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া বলেন, “আমি নিজে নিহতের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারপর জেনেছি, বিএপির নামে একটি কার্যালয় করেছিল, যেইটার ভাড়া না দিয়ে ঘুরাচ্ছিল, পরে লোকটাকে আজকে মারধর করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার খুবই ন্যক্কারজনক।
“ঘটনাটির সঙ্গে যারা জড়িত আছেন বলে অভিযোগ পাচ্ছি, সেই তোতা মেম্বার ও তার পরিবারের লোকজন বিএনপির কোনো পদে নাই। তোতা নিজেও সাবেক সভাপতি। কিন্তু আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত সকলের আইনের মাধ্যমে বিচার চাই। হত্যাকারী যেই হোক না কেন।”