১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সুনামগঞ্জে সেনা অভিযানে গোলাগুলির পর লাশ উদ্ধার, আটক ৪

অভিযানে জব্দ করা হয়েছে বিপুল দেশীয় অস্ত্র।

সুনামগঞ্জে সেনা অভিযানে গোলাগুলির পর লাশ উদ্ধার, আটক ৪
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ চার জনকে আটক করা হয়।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jun 2025, 05:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:15 PM

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় অভিযানের সময় গোলাগুলির পর একজনের লাশ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

রোববার রাতে দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামে এ অভিযান চালানো হয় বলে দিরাই থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন। 

সেনাবাহিনী বলছে, ওই অভিযানে ‘বিপুল পরিমাণ’ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে; আটক করা হয় চারজনকে। 

সোমবার দুপুরে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান একরার হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি সভাপতি আতিকুর রহমানের লোকজনের ‘গোলাগুলির’ ঘটনা ঘটে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হন।

“এছাড়া একরার ও তার অনুসারীরা নিয়মিত অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দিয়ে আসছিল। এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সেনাবাহিনীর একটি টহল দল হাতিয়া গ্রামে অভিযান চালায়।” 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে একরার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে এবং আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।” 

পরে ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং রাতভর তল্লাশি চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয় বলে সেনাবাহিনীর ভাষ্য। 

আটক চারজন হলেন তাজ উদ্দিন, আমির উদ্দিন, ইরন মিয়া ও জমির মিয়া। তাদেরকে ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী’ বলা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। 

সেখানে বলা হয়, আটকদের দেওয়া তথ্যে একটি একনলা বন্দুক, চারটি পাইপগান, সাতটি রামদা, নয়টি বল্লম, ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, একটি তাজা বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতের বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির এক জায়গায় বলা হয়, “মৃত ব্যক্তি কার গুলিতে মারা গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

পরে বিজ্ঞপ্তির আরেক জায়গায় বলা হয়, “আটককৃত ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক নিহত ব্যক্তি অজ্ঞাত কোনো সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা গেছে বলে জানা যায়।”

মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দিরাই থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিহত ওই ব্যক্তির নাম আবু সাঈদ, বয়স ৩১ বছর। তার বাড়ি জগন্নাথপুরের তারাপাশা গ্রামে; পেশায় তিনি স্যানেটারি মিস্ত্রি ছিলেন। হাতিয়া গ্রামে একটি পানির ট্যাংকের কাজ করছিলেন।