আধিপত্য বিস্তারে ফরিদপুরের ২ ইউনিয়নে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
পৃথক এলাকার এসব সংঘর্ষে অভিযোগ উঠেছে দোকান-বাড়িঘরে ভাঙচুর-লুটপাটেরও।
পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার দুই ইউনিয়নে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পৃথক এলাকার এসব সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে দোকান-বাড়িঘরে ভাঙচুর-লুটপাটের।
এর মধ্যে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামে মঙ্গলবার বিকালে এবং তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বলে জানিয়েছেন ভাঙ্গা থানার ওসি মো. আশরাফ হোসেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য বাবর আলী ও আকরাম আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এসব ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা-মোকদ্দমাও চলমান।
এর মধ্যে ঈদের দিন (সোমবার) রাতে আকরাম আলীর পক্ষের লোকজন বাবর আলীর পক্ষের মাজহারুল ইসলামকে মারধর করে। তার জের ধরে মঙ্গলবার বিকালে দুই পক্ষের লোকজন ঢাল-সড়কি, রাম দা, টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে দুপক্ষের প্রায় এক হাজার সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শুরু করে। এ সময় কমপক্ষে ৩০জন গ্রামবাসী আহত হয়।
গুরুতর আহত ১৫জনকে ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় মনসুরাবাদ বাজারের ১০-১২টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
অপরদিকে, তুজারপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সরইবাড়ি গ্রামের কবির খাঁর সঙ্গে হাবি তালুকদারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
ঈদের দিন রাতে কবির খাঁর এক আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার পথে হাবি তালুকদারের লোকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি পরে হাতাহাতি হয়।
এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার ভোরে ঘোষণা দিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফসলের মাঠে সংঘর্ষ শুরু করে। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে রাত ১০টা পর্যন্ত।
এসময় উভয় পক্ষের ২০ জন গ্রামবাসী আহত হয়। গুরুতর আহত প্রায় ১০ জনকে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এসময় দুই পক্ষের ছয়টি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. আশরাফ হোসেন বলেন, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পৃথক দুটি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়েছি। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে উভয় এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পওয়া যায়নি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।
