২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যুবকের ঝুলন্ত লাশ, পরিবারের দাবি সুদের টাকা দিতে না পারায় হত্যা

মাদারীপুরে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Feb 2026, 09:29 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:02 PM

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বাড়ির পাশের গাছ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, সুদের টাকা দিতে না পারায় তাকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবিতে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে একটি গাছে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর-সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন কাদের।

নিহত সোহেল বেপারী (৩৮) ওই এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার চার দিন পার হলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্বজনদের। তবে পুলিশের দাবি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর রহস্য বেরিয়ে আসবে।

স্বজনরা জানান, একই এলাকার হাসান মাদবরের কাছ থেকে থেকে সুদে কিছু টাকা নিয়েছিলেন সোহেল। সেই টাকা দিতে না পারায় কিছুদিন আগেও একবার হাসান মাদবর ও তার লোকজন সোহেলকে মারধর করেন। সবশেষ সোমবার রাত ১০টার দিকে মোবাইলে কল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহেল। রাতে আর তিনি ঘরে ফেরেননি। 

পরদিন সকালে বাড়ির পাশে একটি গাছে সোহেলের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তবে পরিবারের দাবি, সুদের পাওনা টাকার জন্য সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে সোহেলের কিশোরী মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বলে, “হাসান মাদবররা এলাকায় সুদের ব্যবসা করেন। আমার বাবা কিছু টাকা ধার এনেছিল। এ টাকার জেরে ওরা আমার বাবাকে মেরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে।

“আমাদের বাড়ির কাছে একটি ফসলের ক্ষেতের বেশ কিছু স্থানে ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে। বাবার দুই হাতের মুঠোর মধ্যে মাটি লেগেছিল। বাবা আত্মহত্যা করে নাই। ওরা মেরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।

“আমরা মামলা করতে চাইলে থানা মামলা নেয়নি। হাসান মাদবর ও তার লোকজন এখনও আমাদের হুমকি দেয়। আমরা বিচার চাই”, বলে সোহেলের মেয়ে।

এ বিষয়ে জানতে হাসান মাদবরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। 

সহকারী পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন কাদের বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে আত্মহত্যা। পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। প্রতিবেদন পেলে হত্যা নাকি আত্মহত্যা তার রহস্য জানা যাবে। তখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”