১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজীপুর সাফারি পার্কে ‘বাসের ময়লা নিয়ে’ দর্শনার্থী-কর্মী মারামারি, একজন বরখাস্ত

সালমা হোসেন নামে এক নারী দর্শনার্থীর অভিযোগ, পার্কের কর্মীরা স্টিলের রড দিয়ে তার দুই ছেলে জারিফ ও আহনাফ এবং গাড়িচালক রাসেলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2026, 02:21 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:02 PM

গাজীপুর সাফারি পার্কে দর্শনার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় চার দর্শনার্থী ও পার্কের দুই কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পার্কের এক আউটসোর্সিং কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে এ মারামারির ঘটনা ঘটে বলে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারেক রহমান জানিয়েছেন। 

আহতরা হলেন- রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকার সালমা হোসেন (৪৪), তার দুই ছেলে আহনাফ মাহিন (১৭), জারিফ (১৫) ও তাদের গাড়ি চালক মো. রাসেল (২৫) এবং পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী মোমিন ও মাসুদ রানা। 

ভুক্তভোগী সালমা হোসেন বলেন, দুই সন্তান আহনাফ ও জারিফকে নিয়ে শনিবার দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কে যান। পার্কের কোর সাফারির দর্শনার্থীদের বাসের ভেতর ময়লা-আবর্জনা থাকায় তা পরিষ্কার করতে বলেন তারা। এ সময় পার্কের কর্মীরা তাদের ‘গালিগালাজ’ করেন। 

এক পর্যায়ে তারা সঙ্গে থাকা স্টিলের রড দিয়ে জারিফ, আহনাফ ও চালক রাসেলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ওই ঘটনার সময় তার মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় এবং তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া যায় বলেও সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমানের কাছে অভিযোগ করেন সালমা।

অভিয়োগ প্রসঙ্গে মো. তারেক রহমানের ভাষ্য, “দর্শনার্থী বাসে ময়লা থাকাকে কেন্দ্র করে পার্কের এক কর্মচারীর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে দর্শনার্থীদের এক সন্তান ওই কর্মচারীকে মারধর করেন। 

“পরে তাদের পরিদর্শন শেষে পার্কের কার্যালয়ে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলে তারা ফের উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান। এতে পার্কের দুই কর্মচারী আহত হন। তারা চিকিৎসা নিয়েছেন।”

তারেক রহমান বলেন, “এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হলেও তাদের হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। তাদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি চলছে।”

অপরদিকে বন বিভাগের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালনরত মো. মমিন নামে এক কর্মচারীকে ওই নারী ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী এ বলেন, “মো. মুমিন নামের আমাদের একজন স্টাফের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

“আমাদের স্টাফকে আহত করার পর বাসে থাকা ওই পর্যটকদের পার্কের কার্যালয়ে এনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় আবার দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।”

পরে এ ঘটনায় বন বিভাগের আউটসোর্সিং কর্মী মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর থানার ওসি শাহীনুর আলম জানান, এ ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রোববার বেলা ১টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।