টেন্ডার: যুবদল নেতার হুমকির অভিযোগ, কর্মস্থলে যাচ্ছেন না স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
অভিযোগ অস্বীকার করে পাবনার সুজানগরের যুবদল নেতা বলেন, টেন্ডারের নিয়ম নিয়ে কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলাম।
পাবনার সুজানগর উপজেলায় টেন্ডার বাতিলের চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে কর্মস্থলে যাচ্ছেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুপ্রভা রাণী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু।
মঙ্গলবার দুপুরে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ওয়াসিম খান।
১০ সেপ্টেম্বর এমএসআর খাতের ছয়টি প্যাকেজে ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র মূল্যায়নের পর ২ নভেম্বর চারটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুপ্রভা রাণী বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে আট থেকে ১০ জন তার কক্ষে ঢোকেন। তারা কক্ষে ঢুকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে সিসি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেন। পরে কক্ষের দরজা বন্ধ করে টেন্ডার বাতিল করে আবার দরপত্র আহ্বানের জন্য চাপ দেন।
তিনি বলেন, “আমি রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ভয়ভীতি দেখান এবং অফিসের বাইরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।”
সুপ্রভা বলেন, “এ ঘটনার পর আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি, ই-জিপি পদ্ধতিতে নিয়ম মেনেই কাজ দেওয়া হয়েছে।”
ওই ঘটনার পর থেকে প্রাণনাশের আশঙ্কায় আর কর্মস্থলে যাচ্ছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। সিভিল সার্জনের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেবেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু। তিনি বলেন, “টেন্ডারে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। স্থানীয় বৈধ ঠিকাদারদের কাজ না দিয়ে ঝিনাইদহ থেকে লোক এনে কমিটি করা হয়েছে। বিশেষ শর্ত দিয়ে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার যোগসাজশে তার স্বামীর মাধ্যমে কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।”
পিন্টু বলেন, “আমরা শুধু টেন্ডারের নিয়ম নিয়ে কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলাম। তাকে অবরুদ্ধ করা বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। ওসি সাহেবও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নিজের দুর্নীতি আড়াল করতেই তিনি মিথ্যা অভিযোগ করছেন।”
আরএমও ওয়াসিম খান বলেন, “যারা টেন্ডার পাননি, তারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। পরে গিয়ে সিসি ক্যামেরা ঘোরানো অবস্থায় দেখি। এরপর থানায় খবর দিই।”
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সুজানগরে নিয়ম মেনেই টেন্ডার হয়েছে বলে জানি। টেন্ডার না পেয়ে কর্মকর্তাদের হয়রানি করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে আমি সেখানে যান। কয়েকজনকে দেখতে পেলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়ে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। পরে নামাজ পড়তে যাওয়ার পর জানতে পারেন, ওই কর্মকর্তা চলে গেছেন।
