১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

খরার ধাক্কার পর সার নিয়ে ‘বিপাকে’ জয়পুরহাটের কৃষক

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, সারের দাম নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Sep 2022, 01:54 PM

Updated : 04 Sep 2022, 10:52 AM

হঠাৎ করে ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি ও সার সংকটে বিপাকে পড়েছেন জয়পুরহাটের কৃষকরা। প্রয়োজন মতো সার না পাওয়ায় ধান চাষ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

তীব্র কাঠফাটা খরার পর কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে জয়পুরহাটে আমন ধান রোপনের কাজ তরিঘড়ি করে শেষ করেছেন কৃষকরা। আমনের চারা রোপনের তিন সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে সার ছিটিয়ে দিতে হবে ধানক্ষেতে। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ছয় টাকা ও বস্তায় ৩’শ টাকা বেড়ে যাওয়ায়, মজুদদার ও ব্যবসায়ীরা পূর্বের মজুদ করা সার নতুন দামে বিক্রির নানা কৌশল হাতে নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা কেউ দোকান বন্ধ রাখছেন কেউ বা আবার বলছেন, দোকানে সার নেই। ধান রোপনের পাশাপাশি সার সংগ্রহে ধানচাষিদের দৌড়াতে হচ্ছে সার ডিলার ও বিক্রেতাদের দোকানে দোকানে। এই পরিস্তিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সার বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি ডিলারদের।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সরকারি সার গুদামের কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার জানান, গত ৩ মাস আগে ইউরিয়া সারের দাম প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ছিল ৮০০ টাকা। এখন জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। তাই সরকারিভাবে বস্তা প্রতি ৩’শ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১ হাজার ১০০ টাকা ধরা হয়েছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরনাপৈল রেলগেট এলাকার চাষি নাসির হোসেন বলেন, তারা আমন ধানের চারা ইতোমধ্যে রোপনের কাজ শেষ করেছেন, এখন ক্ষেতে ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দেওয়ার সময় হলেও তারা সার সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

পাঁচবিবি উপজেলার কড়িয়া গ্রামের চাষি মাহমুদ হোসেন বলেন, এক দিকে সারের দাম বেশ, আবার চাহিদামত ব্যবসায়ীরা তাদের সারও দিচ্ছেন না বলে তারা ধানের ফলন নিয়ে বেশ উৎকন্ঠায় রয়েছেন।

কালাই উপজেলার থুপসারা গ্রামের নজরুল ইসলামসহ জেলার অন্যান্য কৃষকরাও একই কথা জানান।

এদিকে সারের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগে সারের ডিলার ও ব্যবসায়ীরা পূর্বের কম দামের মজুদ করা সার এখন বেশি দামে বিক্রির নানা কৌশল করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে কৃষকদের। ধানসহ কৃষি পণ্য উৎপাদনে বীজ, সার, কিটনাশক ও জালানি তেলসহ চাষের প্রয়োজনীয় খরচ অনেক বেশি হওয়ায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা। তারা সারের দাম কমানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের আমন ধান চাষি উজ্জ্বল বলেন, সার ব্যাবসায়ীদের কাছে তারা সারের জন্য ধর্না দিচ্ছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সার সংকটের কথা বলে বেশি দাম নিচ্ছে। অথচ চাহিদামত সার দিচ্ছেন না।

“জমিতে সঠিক সময়ে পরিমাণ মত সার না দিলে আশানুরুপ ধানের ফলন পাওয়া যাবে না।” বলেন ক্ষেতলাল উপজেলার তালশন গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন।

সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ না করায় ফলন বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সদর উপজেলার পাকুরতলী এলাকার কৃষক এন্তাজুল ইসলাম এন্তা বলেন, “গত বছর ট্যাকার অভাবে জমিত সার দিতে পারিনি বুলে অর্ধেক ফলন পাছোঁনো। এখন তো সারই পাছি না, সার ছিটান না পারলে ধানই ক্যামনে হবে, আর খামোই কি ?”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়পুরহাট জেলা শহরের সার ডিলার মিজানুর রহমান মিন্টু, সদর উপজেলার হানাইল চল্লিশ পীড় দরগাহ এলাকার গোলজার হোসেন, ক্ষেতলাল উপজেলার নিমতলী এলকার সার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনসহ সার ডিলার ও ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারের নির্দ্ধারিত দরেই তারা সার বিক্রি করছেন।

তারা বলছেন, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সারের মূল্য বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ তা করে থাকেন, তার দায়ভার তকেই নিতে হবে।

এ দিকে সার সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করে জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জয়পুরহাটে এ মৌসমে ৬৯ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের জন্য ৩ মাসে ৮ হাজার ৬৯৫ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার মজুদ আছে। এ মজুত পর্যাপ্ত। তাই সারের কৃত্রিম সংকট যাতে না ঘটে, নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।