Published : 30 Jul 2026, 06:16 PM
সরকারি বরাদ্দের ১৪ কোটি বিভিন্ন সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে শেরপুর সদর উপজেলার ১৫ ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।
শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে শেরপুর সদর থানার ওসি মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন বুধবার।
আসামিরা হলেন- মো. রাসেদুল ইসলাম, সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মীর দেলোয়ার হোসেন, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, ইলিয়াস আলী, তাপস নন্দী, কামরুন নাহার হাসেম, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, রেজাউল করিম, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করলে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের চার হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সার (মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা), ৮২১ টন ডিএপি সার (মূল্য প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা), ১৩৪ টন টিএসপি সার (মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা) এবং অন্যান্য সার বাবদ প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সার কালোবাজারে বিক্রি করেন।
এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য করা হয়।
এতে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন এবং সরকারের কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয় বলে মামলায় বলা হয়েছে।
ওসি সোহেল রানা বলেন, গত ২২ জুলাই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে।
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি বরাদ্দের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ১৫ ডিলার ও তাদের পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।