Published : 14 Aug 2026, 06:18 PM
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে মারা যাওয়া যুবকের লাশ দাহ করতে নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বজনরা।
পথে একটি বিষধর সাপ দেখে তাদের মনে হয়, সাপটি মৃত যুবকের শরীর থেকে বিষ বের করে তাকে আবার বাঁচিয়ে তুলতে পারে। এরপর লাশ বাড়িতে এনে শুরু করা হয় ঝাড়ফুঁক।
শুক্রবার উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের জুরাবান্ধা মালিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল গফুর।
সাপের কামড়ে মারা যাওয়া বিজয় রায় (২০) ওই এলাকার বিপুল রায়ের ছেলে। তিনি সাপের খেলা দেখাতেন। ৭ অগাস্ট রাতে একটি অনুষ্ঠানে সাপের খেলা দেখানোর সময় তাকে সাপ কামড় দেয়।
পরে স্বজনরা তাকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজয়ের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার ভোরে স্বজনরা তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরিবারের সিদ্ধান্ত ছিল লাশ দাহ করে তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে।
সে অনুযায়ী লাশ নিয়ে যাওয়ার পথে একটি বিষধর সাপ দেখতে পান তারা। এরপর পরিবারের কয়েকজনের ধারণা হয়, ওই সাপটি বিজয়কে আবার জীবিত করতে পারে। পরে লাশ বাড়িতে আনা হয়। সেখানে আট থেকে ১০ জন ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক শুরু করা হয়।
বিজয়ের বাবা বিপুল রায় বলেন, শুক্রবার সকালে ছেলের লাশ বাড়িতে এনে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় বাড়ির সামনে সাপ দেখে তাদের মনে হয়, ঝাড়ফুঁক করলে ছেলে বেঁচে উঠতে পারে। তাই ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণকুমার রায় বলেন, পরিবারের লোকজন মনে করেন মনসা দেবী বিজয়ের প্রাণ ফিরিয়ে দেবেন। এজন্য ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক শুরু করা হয়।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল গফুর বলেন, “বিষয়টি দেখতে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। সেখানে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ নজর রাখছে।”
ওসি আরও বলেন, সাপের কামড়ে উপজেলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় দুটি পৃথক অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: