১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদিশা জামিনে মুক্ত

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 06:32 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

প্রতারণার মামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান বলে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলাম জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে বিদিশার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছে। তা যাচাই বাছাই শেষে সঠিক পাওয়া গেলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার দায়ে গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সাজার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।

বিদিশা ‘পলাতক’ থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় সেদিন।

এরপর ২৫ অগাস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে সেদিন বিদিশার পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন চেয়েছিলেন তার আইনজীবী। তবে আদালত জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

পরে দুই বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন বিদিশা সিদ্দিক। গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির বিদিশার আপিল গ্রহণ করলেও জামিন আবেদনের নাকচ করে দেন। 

এর চার দিন বাদে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার সহধর্মিণী বিদিশা।

রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোক মারফত তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।

মামলায় বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

বাদীর অভিযোগ, বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি। বরং ‘সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি’ দেন।

আরও পড়ুন:

বিদিশার জামিন হাই কোর্টে, মুক্তিতে 'বাধা নেই'

দুই বছরের সাজার বিরুদ্ধে বিদিশার আপিল, মেলেনি জামিন

সাজার মামলায় বিদিশার জামিন শুনানি বুধবার, আশায় আইনজীবী

বিদিশার জামিন আবেদন নাকচ, দুই বছরের সাজার মামলায় কারাগারে

বিদিশা গ্রেপ্তার

বিদিশা গ্রেপ্তারপ্রতারণা মামলায় বিদিশার কারাদণ্ড, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি