Published : 30 Mar 2025, 07:08 PM
বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে ‘চাঁদাবাজ ভেবে এক জেলেকে’ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, নদীতে পণ্যবাহী নৌযান থেকে চাঁদা তোলা নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
শনিবার রাতে উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হিজলা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ।
নিহত ২৪ বছরের মো. শরীফ তপাদার ধুলখোলা ইউনিয়নের হানিফ তপাদারের ছেলে।
ওসি আজাদ বলেন, “নদী থেকে মাছ শিকার করে বিক্রির পর রাতে কয়েকজনকে নিয়ে তা ভাগ-বাটোয়ারা করছিল শরীফ। এ সময় মেঘনা নদীতে চলাচলকারী কার্গো, বাল্কহেডসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে চাঁদা নিয়েছে ভেবে তাকে ধরে নিয়ে যায় ৮-১০ জন লোক।”
পরে তাকে মারধর করে মারাত্মক আহত করে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ভোরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
তবে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ধুলখোলা ইউনিয়ন বিএনপির দুটি পক্ষ রয়েছে। দুই পক্ষই মেঘনা নদীতে চলাচল করা কার্গো, বাল্কহেড, পণ্যবাহী ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে চাঁদা উত্তোলন করে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও হয়েছে।
'নদীর ট্যাক্স' বহাল তবিয়তে, বদলেছে শুধু দল আর হাত
এর ধারাবাহিকতায় শনিবার নদীর নৌযান থেকে চাঁদা উত্তোলন করেছিল শরীফ। এতে তার উপর ক্ষিপ্ত হয় প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে তারা ৮-১০ জন মিলে শরীফের হাত-পা ও মুখ বেঁধে বেধড়ক মারধর করেছে।
এ বিষয়ে ধূলখোলা ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সগীর আহম্মেদ বলেন, “আগে যারা হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান জামাল ঢালীর লোক ছিল, তারা এখন বিএনপির লোক হয়ে গেছে।
“নিহত শরীফ দলের কোনো পদে নেই। কিন্তু সে বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী ছিল। নব্য বিএনপির কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।”
ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে শরীফের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।
তবে শরীফকে মারধরকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান করছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।