Published : 18 Aug 2025, 05:47 PM
শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে মুচলেকা দিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের সদ্য যোগদান করা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সাকির হোসেন।
সোমবার দুপুর ২টার দিকে পুলিশের একটি দল অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে বলে জানান ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।
অধ্যক্ষকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
বেলা ১২টার দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাকির হোসেন কলেজে আসার খবরে শিক্ষার্থীরা তার কক্ষে তালা দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করলে তিনি মুচলেকা দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
মুচলেকায় সাকির হোসেন লেখেন, “আনন্দ মোহন কলেজের চলমান সংকট উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি কোনো দায়িত্ব পালন করব না।”

আনন্দ মোহন কলেজের ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান খান সাদি বলেন, “শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে মুচলেকা দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন স্যার। সহকর্মী হিসেবে স্যারকে আমি অটোরিকশা করে বাসায় পৌঁছে দেই।”
এর আগে ৩ অগাস্ট ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক মো. সাকির হোসেন। তার আগে ৩ জুলাই উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সাকির উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের মুখে বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কলেজে আসবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন সাকির হোসেন। তবে সোমবার তিনি ক্যাম্পাস আসলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাকির হোসেনের ছোট ভাই রাকিব হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাকিব বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাগর হত্যা মামলার আসামি। তাই অধ্যক্ষের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।

অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষের পদ শূন্য ঘোষণা করার দাবিতে রোববার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইমরুল কায়েস বলেন, “শহীদ সাগরের রক্ত এখনো শুকায়নি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ‘দোসরকে’ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা তা কীভাবে মেনে নেই বলেন? আন্দোলনের মুখে অধ্যক্ষ কলেজে আসবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
“কিন্তু সাকির স্যার গোপনে বিভিন্ন ফাইলে সাক্ষর করছেন বলে আমরা জানতে পারছি। আজকে তিনি কলেজে এসেছিলেন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। তাই তাকে অবরুদ্ধ করে আন্দোলন করেছি। পরে তিনি মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন।”

ভূগোল বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হারুনুজ্জামান সাগর বলেন, “ফ্যাসিস্টের জায়গা আনন্দ মোহন কলেজে হবে না। আগেও বলেছি এখনো বলছি। সাকির স্যারকে আমরা চাই না। এর ব্যত্যয় হলে আরও কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
মুচলেকা দিয়ে কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক সাকির হোসেনকে কটাক্ষ করে ‘ভুয়া ভুয়া স্লোগান’ দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এ সময় সংবাদকর্মীরা সাকির হোসেনকে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। পরে মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, একটি বিষয়ে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাকির হোসেন কলেজে গেলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে। পরে নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে তাকে সহযোগিতা করে পুলিশ।