Published : 07 Sep 2024, 09:02 PM
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় শ্রেণিকক্ষে দুষ্টুমি করার অভিযোগে শিক্ষকের স্কেলের আঘাতে এক শিশুর চোখ নষ্টের আশঙ্কা করছেন স্বজনরা।
স্বজনরা জানান, গত ৫ দিন ধরে ওই শিশু চোখের যন্ত্রণায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। তবে শিক্ষকের দাবি, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত।
আহত শিক্ষার্থীর ফারহান ইসলাম রোহান (৮) উপজেলা দক্ষিণ আকালিয়া গ্রামের মো. রবিউল হোসেনের ছেলে।
সে স্থানীয় সেবা মাল্টিমিডিয়া আইডিয়াল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।
সোমবার বিদ্যালয়ে পাঠদানের সময় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার চেয়ে শিশু শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে ইউএনও এবং শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
শিশুটির চাচা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমার ভাতিজা রোহান খুবই মেধাবী৷ গত সোমবার ক্লাসে সে দুষ্টুমি করার অভিযোগে সহকারী শিক্ষক মো. সৌরভ হোসেন তার হাতের একটি প্লাস্টিকের স্কেল দিয়ে রোহানকে আঘাত করেন। তখন স্কেলটি ভেঙে অর্ধেক হয়ে যায়।
“এ সময় রোহানের একটি বই মেঝেতে পড়ে গেলে সে বইটি তোলার সময় শিক্ষক সৌরভ তার হাতে থাকে স্কেলের ভেঙে যাওয়া বাকি অংশটি ছুঁড়ে মারলে তা সরাসরি রোহানের ডান চোখে গিয়ে লাগে।”
এতে তার ডান চোখ থেকে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকার একটি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান মোফাজ্জল হোসেন।
তার ভাষ্য, “বৃহস্পতিবার হাসপাতালের চিকিৎসকরা অপারেশনের পর জানিয়েছেন, রোহানের চোখ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ ও চোখের সব পানি ঝরে গিয়ে পানিশূন্য হয়ে চোখটি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও তার চোখটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।”
সহকারী শিক্ষক সৌরভ হোসেনের দাবি, “ঘটনার সময় আমি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া নিচ্ছিলাম। এ সময় রোহান দুষ্টুমি শুরু করে।”
সৌরভ আরও বলেন, তখন তিনি তার হাতে থাকা স্কেল দিয়ে রোহানকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় স্কেলটি ভেঙে অর্ধেক অংশ মাটিতে পাড়ে যায়। পরে তার হাতে থাকা স্কেলের বাকি অংশ দিয়ে রোহানকে ভয় দেখাতে চেয়ে ছিলেন।
এ সময় রোহান হঠাৎ সামনে এগিয়ে এলে স্কেলের ভাঙা অংশ তার চোখে গিয়ে লাগে বলে দাবি শিক্ষক সৌরভ হোসেনের।
সৌরভ আরও বলেন, “ঘটনাটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল। এ ঘটনায় আমি অনুতপ্ত। ওই ছাত্রর চিকিৎসার যা প্রয়োজন, আমি তা করব।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা পারভীন ভানু বলেন, “এ বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ করেছেন শিশুটির মা। এভাবে বেত বা স্কেল দিয়ে শিক্ষার্থীদের আঘাত করার কোনো বিধান নেই। আমরা প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে শোকজ করেছি।”
ইউএনও সুমাইয়া মমিন বলেন, “এরই মধ্যে বিষয়টি আমি জেনেছি। শিশুটির মা এ ঘটনার বিচার চেয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”