Published : 29 Jun 2025, 12:05 AM
খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে সেখানকার প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে গিয়ে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার বিকালে প্রেস সচিব খুলনা প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে গেলে আন্দোলনকারীরা সেখানে গিয়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং পুলিশ কমিশনারের অপসারণ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় আন্দোলনকারীরা সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ নিয়ে কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত প্রেস সচিবকে বের হতে দেওয়া হবে না।
পরে প্রেস সচিব সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৮টা ৫ মিনিটে তিনি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নৌ বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় বের হয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক বলেন, প্রেস সচিব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খুলনায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। বিকাল ৫টার দিকে তিনি প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে আসেন।
এদিকে খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের অপসারণ দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার দুপুর থেকেই বিক্ষোভ করছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
পরে তাদের সঙ্গে খুলনার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়।
প্রেস সচিব প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে এসেছেন জানতে পেরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সেখানে গিয়ে অবস্থান নেন এবং তাদের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন।
তখন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দারের অপসারণ চেয়ে তিন দিন ধরে আন্দোলন করছি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আমাদের কোনো খোঁজ নেননি।”
দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব, আপনি প্রধান উপদেষ্টাকে বিষয়টা জানান। তা না হলে আপনাকে আমরা এখান থেকে বের হতে দেব না।”
পরে এ বিষয়ে খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, “চলমান আন্দোলনের একটি অংশ প্রেস ক্লাবের সামনে এসে অবস্থান নেন। ফলে ক্লাব থেকে কেউই বের হতে পারেননি। এ অবস্থায় প্রেস সচিবও অবরুদ্ধ হন।”
প্রেস ক্লাবের নেতারা বলেন, প্রেস সচিব পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তিনি।
আলোচনা শেষে তিনি প্রেস ক্লাব ত্যাগ করেছেন বলে জানান তারা।
এসময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে একটি আন্দোলন চলছে, যার মূল দাবি হল- খুলনার পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ। আমরা এখানে এসেছি জেনে আন্দোলনকারীরা আমাদের সঙ্গে দেখা করে প্রেস সেক্রেটারির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের অভিযোগগুলো পৌঁছে দিতে।
“আমাদের মিটিং শেষ হওয়ার পর আমরা তাদের ডেকে বলি, ‘আপনারা উপরে আসেন, কথা বলি।’ এরপর তারা কনফারেন্স রুমে এসে জানান যে, পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে তাদের অনেক অভিযোগ রয়েছে এবং তারা চায় সেগুলো যেন প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়। আমরা তাদের বলেছি যে, আমরা এসব অভিযোগ প্রধান উপদেষ্টার কাছে পৌঁছে দেব।
“তবে আমরা তাদের কোনো প্রতিশ্রুতি দেইনি এবং তারাও কোনো প্রতিশ্রুতি চায়নি। শুধু বলেছি, ‘আমরা জানাবো, তবে আপনারা আন্দোলন করবেন কী করবেন না, সেটা আপনাদের নিজস্ব ব্যাপার’।”
ফয়েজ আহম্মদ বলেন, “তারা আমাদের অনুরোধ করেছে যেন আমরা স্যারকে (প্রধান উপদেষ্টা) বিষয়টি জানাই। এ ছাড়া তারা জানিয়েছেন, তারা আগামী জুলাই মাসব্যাপী অনুষ্ঠান উদযাপন করবেন এবং এ বিষয়ে সহযোগিতা ও পরামর্শও চেয়েছেন। সে অনুষ্ঠানটি ডিসি সমন্বয় করবেন।”
এখানে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “প্রেস ক্লাবের সামনে তারা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করলেও, আমাদের মিটিং চলাকালীন তারা আমাদের ঘেরাও করেনি। বরং তারা ভেবেছে, আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের কথা পৌঁছাতে পারব, এ বিশ্বাস থেকেই তারা আমাদের সাথে দেখা করতে চেয়েছে।
“তাই এই ঘটনাকে ‘অবরুদ্ধ’ বলা সঠিক হবে না। বাস্তবতা হল- তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের বক্তব্য আমাদের জানিয়ে আমাদের মাধ্যমে উপরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে।”
আরও পড়ুন
খুলনা পুলিশ কমিশনারের অপসারণ দাবিতে ফের বিক্ষোভ
বাড়ি ভাঙচুরের মামলায় চুয়াডাঙ্গা থেকে এসআই সুকান্ত গ্রেপ্তার
খুলনায় এসআইকে মারধর করে পুলিশে দেয় জনতা, ছেড়ে দেওয়ায় বিক্ষোভ-ঘেরা