১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতালি নেওয়ার নামে লিবিয়ায় যুবককে হত্যা, মাদারীপুরে ‘দালাল’ গ্রেপ্তার

মাদারীপুরের যুবকের ওপর নির্যাতন চালিয়ে সেই ভিডিও পাঠিয়ে দফায় দফায় ৩৮ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে পরিবারের দাবি।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2026, 05:29 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় ইতালি পাঠানোর কথা বলে এক যুবককে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিপণ আদায়ের পরও ওই যুবককে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের মায়ের দায়ের করা মামলায় এক দালালকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন জানিয়েছেন। 

নিহত ২৪ বছর বয়সী সোহাগ মুন্সী রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে। তিনি ঢাকায় রং মিস্ত্রির কাজ করতেন।

সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, “বুধবার রাতে সোহাগের মা শাহিনুর বেগম রাজৈর থানায় মামলা করেন। এরপর প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, সোহাগ ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর স্থানীয় ওই দালালের সঙ্গে তাকে ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর চুক্তি হয়। 

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরবে নেওয়া হয়। কয়েক দিন সেখানে রাখার পর পাঠানো হয় লিবিয়ার বেনগাজি শহরে। সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালালচক্র তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে রাজধানী ত্রিপোলির একটি বন্দিশালায় আটকে রাখে। 

এরপর তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিডিও দেখিয়ে দফায় দফায় ৩৮ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের ভাষ্য, পরে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে আরও ২৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় সোহাগের ওপর আবারও নির্যাতন চালানো হয়। ২৪ জুলাই বন্দিশালায় তার মৃত্যু হয়। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে আরও ২৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় সোহাগের ওপর আবারও নির্যাতন চালানো হয়। পরে গত ২৪ জুলাই বন্দিশালায় তার মৃত্যু হয়।

তবে বিষয়টি কয়েক দিন গোপন রাখা হয়েছিল। পরে লিবিয়ায় থাকা মাদারীপুরের এক প্রবাসীর মাধ্যমে পরিবার সোহাগের মৃত্যুর খবর জানতে পারে।

সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, “মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনার আন্তর্জাতিক সংযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “মানবপাচার প্রতিরোধে সম্প্রতি মাদারীপুর জেলা পুলিশ একটি বিশেষ মনিটরিং সেল চালু করেছে। এ সেল মানবপাচার-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, বিচারিক কার্যক্রম তদারকি এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।”

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত মাদারীপুরে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে ৭৫১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫টি মামলর  তদন্ত চলছে। বাকি মামলাগুলোর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।