১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পাবনায় ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

“এ ঘটনার পর ফুটবল টুর্নামেন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 01:21 PM

Updated : 12 Oct 2026, 02:32 PM

পাবনার বেড়ায় স্থানীয় একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার বিকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলা এই তাণ্ডবে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ৩ জন গুরুতর আহতসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বেশ কয়েকটি দোকানে।

তবে সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানান বেড়া মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার সরকার।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থানীয় বিবি হাই স্কুল মাঠে ‘বেড়া বিএমএস বনানী সংঘে’র উদ্যোগে আয়োজিত একটি টুর্নামেন্টে বেড়া পৌরসভার ২ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খেলা চলাকালে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল ২ নম্বর ওয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধে ৯ নম্বর ওয়ার্ড ২-২ গোলে সমতা ফেরালে মাঠে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।

এক পর্যায়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগর সম্প্রদায়ের একাংশ মাঠে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আয়োজক কমিটি মাইকে তাদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে সওদাগর সম্প্রদায়ের লোকজন বেড়া বাজারে গিয়ে দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে টিন ব্যবসায়ী শরীফ হাজী ও ব্যবসায়ী জানু খাঁ গুরুতর আহত হন।

ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দারা সওদাগর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এতে সাদ্দাম হোসেন নামে একজনসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে সংঘাতের তীব্রতা বাড়লে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোরশেদুল ইসলাম ও বেড়া মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথ অভিযান চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছুঁড়তে বাধ্য হয়।

ইউএনও মোরশেদুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনার পর ফুটবল টুর্নামেন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

ওসি নয়ন কুমার সরকার বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।