ফরিদপুরে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি উধাও
প্রায় তিন মাস আগে বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে স্থানীয় লোকজন ও মেয়েটির পারিবার জানিয়েছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়ের তিন মাসের মধ্যে এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। পরে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
মৃত ১৪ বছর বয়সী লামিয়া ইসলাম ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী সাহাপাড়া গ্রামের লিঠু মাতুব্বরের মেয়ে এবং ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের রনি শেখের স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মুনসুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া প্রায় তিন মাস আগে পালিয়ে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আত্মগোপনে ছিল।
সাতদিন আগে লামিয়ার পরিবারের সদস্যরা লামিয়া ও রনি শেখকে খুঁজে পায়। এরপর থেকে তারা রনির বাড়িতে বসবাস করছিল।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য, রোববার রাতে রনির মা লামিয়ার নানাকে ফোন করে জানান, আপনার নাতনি মারা গেছে। খবর পেয়ে লামিয়ার নানা হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ দেখতে পান।
এ সময় হাসপাতালে লামিয়ার লাশ রেখে তার স্বামী ও শাশুড়ি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
মৃত কিশোরীর বাবা লিঠু মাতুব্বর বলেন, “লামিয়া পরিবার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ওই ছেলেকে বিয়ে করে, এই কারণেই আমাদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কটা ছিল না। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে ছুটে যাই। আমরা ন্যায় বিচার দাবি করছি।”
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে লামিয়া ইসলামের স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি কাউকে দেখতে পাইনি। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”
