Published : 16 Oct 2025, 11:06 PM
মাদারীপুর শহরের একটি এতিমখানার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সমাজসেবা কর্মকর্তা ও এতিমখানার সুপারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
বৃহস্পতিবার বিকালে দুদক মাদারীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান অপু মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন একই কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আতিকুর রহমান।
আসামিরা হলেন- হযরত শাহ মাদার (র.) দরগাহ শরিফ এতিমখানার সেক্রেটারি ও সুপার মোহাম্মদ আল-আমীন এবং সাবেক শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা শ্যামল পাণ্ডে। শ্যামল বর্তমানে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
মামলার বরাতে দুদক কর্মকর্তা আতিকুর বলেন, শহরের দরগাখোলা এলাকার হযরত শাহ মাদার এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা শরীফ মুজিবুল হক মারা যাওয়ার আগে এতিমখানার নামে ইসলামী ব্যাংক মাদারীপুর শাখায় ৪৭ লাখ টাকা রেখে যান।
পরে এতিমখানার কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ‘ভুয়া রেজুলেশন’ তৈরি করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন আল-আমিন। এ ছাড়া ছাত্র বেশি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের হিসাব নম্বর থেকে পাঁচ বছর ধরে টাকা উত্তোলন করেন তিনি।
দুদক জানায়, এতিমখানাটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান। সরকারিভাবে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৪৫ এতিম ছাত্রের জন্য প্রতিমাসে মাথাপিছু দুই হাজার টাকা করে মোট দুই কোটি আট লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু এতিমখানায় গড়ে ৪০ ছাত্র বসবাস করত।
২০২৩-২৪ সালে সেখানে ছাত্র ছিল ৪০ থেকে ৫০ জন। কিন্তু এতিমখানার সুপার আল আমিন ১৪৫ ছাত্রের নামে আসা পুরো টাকা উত্তোলন করেন। তার বিরুদ্ধে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া এতিমখানায় সাধারণ জনগণের দেওয়া অনুদানের কোনো হিসাব কখনোই কমিটির কাছে উপস্থাপন করেননি সুপার।
সমাজসেবা কর্মকর্তা শ্যামল পাণ্ডে ও এতিমখানার সুপার পরস্পর যোগসাজশে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের মোট এক কোটি এক লাখ ১৯ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের উপ-পরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলবে।