Published : 26 Feb 2026, 12:57 PM
প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলায় ঠিকাদার ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে রংপুর সিনিয়র স্পেশাল জেলা জজ আদালতে মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ের উপপরিচালক শাওন মিয়া।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাকিব ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাকিব, মুক্তি প্রকৌশল সংস্থার মালিক এটিএম ফুহাদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম দুলাল, মেঘনা ব্যাংক রংপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মাহফুজুল ইসলাম, সহকারী ব্যবস্থাপক একেএম শফিকুল মমতাজ, সিনিয়র অফিসার আতিকুর রহমান এবং সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মঞ্জুর হোসেন পাটওয়ারী।
মামলার বাদী শাওন মিয়া বলেন, আসামিরা প্রতারণামূলকভাবে মেঘনা ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মো. মোস্তাফিজার রহমান মেয়র হিসেবে দায়িত্বরত থেকে টেন্ডারের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার SA-RB (JV)-এর অনুকূলে মেঘনা ব্যাংক বরাবর চেক ইস্যু করার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। যা অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে নিজে লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, মেসার্স রাকিব ব্রাদার্স কর্তৃক টেন্ডারের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার হয়েও প্রকল্পের কাজ না করে অপর একজনকে কার্য সম্পাদনে দায়িত্ব প্রদানের জন্য পাওয়ার অব এটর্নি সম্পাদন করেন। পরবর্তীতে ৮ম ও ৯ম বিলের টাকা অন্য ব্যাংকে গ্রহণ করে মেঘনা ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৩ টাকা ঋণ পরিশোধ করেননি।
মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ওই প্রকল্পের ৮ম ও ৯ম বিলের টাকা অন্য ব্যাংকের অনুকূলে চেক ইস্যুর ফলে মেঘনা ব্যাংকের টাকা আত্মসাতে সহযোগিতা করেন।
তবে এই অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কল রিসিভ না করায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রংপুর সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাওন মিয়া বলেন, মেঘনা ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের তদন্তে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় এ মামলা করা হয়েছে।