Published : 23 May 2026, 10:12 PM
নরসিংদীতে ধর্ষণের অভিযোগে ডাকা সালিশ বৈঠকে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব ওঠায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক কিশোরী।
শুক্রবার বিকালে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে বলে নরসিংদী মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন জানান।
কিশোরীর (১৭) বাড়ি চিনিশপুর ইউনিয়নের একটি এলাকায়। এক মাস আগে পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলায় বিয়ে হয়েছিল তার।
পরিবার জানায়, ১৫ দিন আগে বিয়ের কথা বলে নাইম (২৫) নামে এক তরুণ তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে তুলে আনেন। নাইম চিনিশপুরের শফিকুল ইসলাম ও হেলেনা বেগমের ছেলে এবং পেশায় প্রাইভেট কার চালক।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, এক বছর ধরে নাইমের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক মাস আগে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেয় পরিবার। ১০ মে এক বন্ধুর সহায়তায় স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে আসেন নাইম। এ ঘটনায় স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় তার। এরপর বিয়ের প্রলোভনে কয়েক দফা তাকে ধর্ষণ করে নাইম।
এসব ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত নাইমকে বিয়ে করতে চাপ দেয় কিশোরীর পরিবার। কিন্তু নাইম তাকে বিয়ে করতে অনীহা প্রকাশ করে এড়িয়ে চলেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা চায় কিশোরীর পরিবার। পরে এ ঘটনা নিয়ে শুক্রবার বিকালে বসা এক সালিসে এক লাখ ২০ হাজার টাকায় ঘটনাটি মীমাংসার কথা আলোচনা হয়।
কিশোরীর মা বলেন, “বিয়ের কথা বলে নাইম আমার মেয়ের সংসার ভাঙছে, কয়েক দফা ধর্ষণ করেছে। এতকিছুর পর সে এখন তাকে বিয়ে করতে চাচ্ছে না। সালিশে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার কথা উঠায় সহ্য করতে পারেনি সে। অপমান সইতে না পেরে মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। ঢাকায় হাসপাতালের বেডে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে আমার মেয়ে।”
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, “গলায় ফাঁস নেওয়া একজন কিশোরীকে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে অচেতন অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।”
সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক টিটু, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আওলাদ হোসেন মোল্লা, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন।
জানতে চাইলে জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, “উভয় পক্ষের অনুরোধে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। ওই সালিশে আমরা সবাই বিয়ের পক্ষে মত দেই। কিন্তু ছেলেপক্ষের লোকজন টাকা দিয়ে মীমাংসার কথা বলছিল। এর মধ্যেই সালিশ শেষ হওয়ার আগেই মেয়ে বাড়িতে গিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। ঘটনার পর থেকে আমি হাসপাতালে মেয়েটির পাশেই অবস্থান করছি।”
নরসিংদী মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন বলেন, “অন্যত্র বিয়ে হওয়ার ১৫ দিন পর ওই মেয়েকে বিয়ের প্রলোভনে স্বামীর বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিল প্রেমের সম্পর্কে থাকা তরুণ। তবে এখন আর তাকে বিয়ে করতে চাচ্ছে না ওই তরুণ।
“এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টার মধ্যেই ওই কিশোরী শুক্রবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। ঘটনাটি মৌখিকভাবে আমাকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”