১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

‘জনসমাগম কমায়’ সুন্দরবনে ‘বেশি’ দেখা মিলছে বাঘের

২০২২-২৩ সালের সবশেষ জরিপে সুন্দরবনে পূর্ণবয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১২৫।

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 05:09 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। আর বনের ভেতরে হঠাৎ বাঘের দেখা মিললে পর্যটকদের কাছে সুন্দরবন ভ্রমণ যেন পূর্ণতা পায়।

সুন্দরবনে সাম্প্রতিক সময়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অবাধ বিচরণ বনবিভাগকে আশাবাদী করে তুলেছে। 

বন কর্মকর্তাদের ধারণা, দীর্ঘদিন জনসমাগম কম থাকা এবং বনে হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাঘও স্বাভাবিক আবাসস্থলে বেশি বিচরণ করছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালের বাঘ গণনায় সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তারা।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলছেন, “খুব ফ্রিকুয়েন্টলি বাঘ দেখছেন সুন্দরবনে। অফিস ক্যাম্পাসে চলে আসছে, নদী খাল সাঁতরে যাচ্ছে। এটি আসলে দেখা যাচ্ছে কেন? 

“সুন্দরবনে এখন কোনো জনসমাগম নেই, দুমাস ধরে কোনো লোকজন (জেলে, পর্যটক) নেই। তাই বাঘ এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওরা মনে করছে যেহেতু বনে লোকজন নাই তাই সবই এখন বন। ওরা ওদের আবাসস্থল মনে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ কারণে বেশি দেখা যাচ্ছে।” 

গত ১ জুন থেকে সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময় বনজীবী ও পর্যটকসহ সাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রোববার সকাল ১০টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের টাইগার পয়েন্ট এলাকার নদীতে এক বাঘকে সাঁতার কাটতে দেখা যায়।

বনরক্ষীদের টহল বোটের সামনেই নদী সাঁতরে অপর পাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বাঘটি। মুহূর্তটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট টিমের বোটচালক সাইফুর রহমান। পরে ভিডিওটি নিজের ফেইসবুক আইডিতে প্রকাশ করলে তা ছড়িয়ে পড়ে।

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ডিএফও রেজাউল করিম। 

তিনি বলছেন, “আমরা জানি হরিণ বাড়লে বাঘও বাড়ে। তাই আমরা মনে করছি, বনে বাঘ ও হরিণ দুটোই বেড়েছে। এই ট্রেন্ড যদি চলে তাহলে আগামী ২৭ সালে যে জরিপ হবে (৩/৪ বছর পরপর জরিপ হয়) তাতে বাঘের সংখ্যা বেশি হবে বলে আশা করছি। 

এ বন কর্মকর্তা বলছেন, “দেশি বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা থাকে সুন্দরবনকে এক নজর দেখার। সেই সুযোগ থেকে তাদের বঞ্চিত করতে চাই না। সেলক্ষ্যে সুন্দবনের ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্লান ও রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান আছে। 

“সেই প্ল্যনে বনের অভয়ারণ্য এলাকাতে প্রতিদিন কতজন পর্যটক যাবে, এর বেশি পর্যটকদের অনুমতি দেওয়া হবে না। এইটা যদি আমরা মেইনটেইন করতে পারি তাহলে সমস্যা হবে না।” 

পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের সমন্বয় হলে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও মনে করেন ডিএফও রেজাউল করিম। 

তিনি বলেন, “বনবিভাগ পর্যটকদের শুধু সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিচরণের অনুমতি দেয়। কাউকেই গহীন জঙ্গলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বাঘ ও হরিণের জন্য যেসব হুমকি রয়েছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।”

২০২২-২৩ সালের সবশেষ জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে পূর্ণবয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১২৫টি বলে বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানিয়েছেন। 

বর্তমান সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২৭ সালের পরবর্তী জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে’ বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সুন্দরবনে বনরক্ষীর ক্যামেরায় সাঁতরে চলা বাঘ