Published : 16 Jan 2026, 07:24 PM
টাঙ্গাইল সদরে মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার চালক ও দুই সহযোগী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর থানা আমলী আদালতের বিচারক রুমেলিয়া সিরাজাম আসামিদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে আদালতের পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান।
কারাগারে যাওয়া হলেন- দিনাজপুরের নরদেরাই গ্রামের বাসিন্দা বাস চালক মো. আলতাফ (২৫), চালকের সহকারী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুল পাগা গ্রামের বাসিন্দা মো. রাব্বি এবং ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরহাট গ্রামের মো. সাগর (২৪)।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় বাস চালক ও তার সহকারীসহ চারজনের নামে মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে একজন পলাতক আছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমীন বলেন, বুধবার রাত ১১টার দিকে ২৩ বছর বয়সি এক নারী সাভারের রেডিও কলোনি থেকে আশুলিয়া যাবার জন্য সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। তিনি ওঠার সময় বাসে আরও দুইজন যাত্রী ছিলেন।
“পথে ওই দুই যাত্রী নেমে যাওয়ার পর ওই নারীকে আটকে রেখে তার কানের দুল, টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে বাসটি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে রাতভর ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়।”
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঢাকাগামী পথে করটিয়া আন্ডার পাস এলাকায় সন্দেহজনক অবস্থায় বাসটি দাঁড়ালে হাইওয়ে পুলিশ চালক ও সহকারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারে বলে জানান ওসি রুহুল আমীন।
তিনি বলেন, বাস থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের পাশাপাশি চালক ও তার দুই সহকারীকে আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় ওই নারী মামলা করেন।
ওসি রুহুল আমীন বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের নামে আরও কোনো মামলা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার নারী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।
টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিকালে বাস চালক আলতাফ হোসেন ও সহকারী রাব্বি ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।