Published : 04 Sep 2025, 01:06 PM
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাচপুরে একটি বাড়িতে ‘জমে থাকা গ্যাসের আগুনে’ তিন শিশুসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে।
গৃহকর্তা মানব চৌধুরী (৪০), তার স্ত্রী বাচা চৌধুরী (৩৮) এবং তাদের তিন সন্তান মুন্নী (১৪), তিন্নি (১২) ও মৌরী (৬) আগুনে দগ্ধ হন।
তাদের মধ্যে মানব চৌধুরীর শরীরের ৪৫ শতাংশ, তার স্ত্রীর ৭০ শতাংশ, মৌরীর ৩৬ শতাংশ, মুন্নীর ২৮ শতাংশ এবং তিন্নির শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’ বলে চিকিৎসকের ভাষ্য।
আহতদের হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন প্রতিবেশী সবিনয় দাস। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ওই পরিবার কাচপুর বিসিক এলাকার তিন নম্বর গলির একটি তিন তলা বাড়ির নিচতলায় থাকে। ভোরে সেখানে আগুন লাগলে অন্যদের সঙ্গে তিনিও দৌঁড়ে যান। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
“আমাদের তিনটা ঘর পরেই ওদের ঘর। ওদের গ্রামের বাড়ি আর আমাদের গ্রামের বাড়ি একই এলাকায়। মানব একটি ওষুধ কোম্পানিতে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি করে।
“মানব তার স্ত্রী এবং তিন মেয়ে ওই বাসায় থাকত। একটাই ঘর, সেটার ভেতরেই রান্নাঘর ও বাথরুম। আগুনের খবর পেয়ে সেখানে যাই। তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসি। আগুন কীভাবে লেগেছে জানি না, তবে শুনেছি গ্যাসের লিক থেকে আগুন ধরেছিল।”
“তাদের কারও অবস্থাই ভালো না। ডাক্তার রক্ত জোগাড় করতে বলেছেন। আমি রক্তের জন্য দৌঁড়াইতেছি”, যোগ করেন সবিনয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কাঁচপুর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ঘরের ভেতর থাকা সিলিন্ডারের লাইনের লিকেজ থেকে জমা গ্যাসের কারণে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
সকালে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তের পর ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা বলেন, “ঘরটির ভেতরেই রান্নার চুলা। একটি গ্যাস সিলিন্ডার সেখানে পাওয়া গেছে। চুলার সঙ্গে গ্যাসের অন্য কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি।
“নিচতলায় ঘর হওয়াতে চুরির ভয়ে হয়তো রাতে দরজা-জানালা বন্ধ ছিল এবং সিলিন্ডারের লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে চেম্বারের মতো হয়ে যায় এবং ভোরে আগুনের কোনো উৎস পেয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।”