২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘ধানের বিছন পাড়ছি, শীতে চারা লালচে-কোঁকড়ানো হচ্ছে’

কুড়িগ্রামে বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাড়ে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jan 2026, 05:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:31 PM

কুড়িগ্রামে বুধবার সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা বছরে জেলার সর্বনিম্ন। 

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ রকম আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকতে পারে।

হিমেল হাওয়ার দাপটে জেঁকে বসেছে শীত। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। শীতের তীব্রতায় ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েক লাখ দরিদ্র মানুষ।

সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের কৃষক নাজমুল বলেন, “চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বিছন পাড়ছি (ধান রোপণের বীজতলা)। কিন্তু কনকনে ঠান্ডা আর শীতে বীজতলার চারাগুলো লালচে ও কোঁকড়ানো হয়ে যাচ্ছে। চারা ভালো না হলে হামরা কৃষক মানুষ ধান লাগামো কী দিয়ে?” 

নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা শামসুল আলম পেশায় জেলে। মাছ ধরে জীবন-জীবীকা নির্বাহ করেন। 

তিনি বলছিলেন, “ঠান্ডায় পানিত নামতে মন চায় না। আবার মাছ না মারলে পেটে ভাত যায় না। বউ-বাচ্চা ধরি কয়েক দিন থেকে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। এ অবস্থা যে কতদিন চলবে আল্লাহ জানে।”

কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বৈশ্যপাড়ার অঞ্জলি রাণী বলেন, “দুই বেটা, দুই বেটি কাইয়ো পোষে না। এই ঠান্ডায় সারাবেরি গেনু কাইয়ো কম্বল দিল না। একনা চাঁদর গাঁত দিয়ে থাকোং। খুঁজি মাঙ্গি যা পাং তাই দিয়ে একবেলা খায়া না খায়া চলছে।”

শীতের কারণে কয়েক দিন থেকে জ্বর, সর্দি, অ্যাজমা, হাঁপানি ও ডায়রিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেড়ে চলছে। 

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। আবার কিছু রোগী হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছেন।”

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতা আব্দুল মতিন বলেন, নয়টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে এবং নগদ ৪০ লাকা টাকা মজুদ আছে।