Published : 19 Aug 2026, 08:45 PM
বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির দুই সদস্যকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে কুমিল্লার একটি আদালত। একই মামলায় এক নারীকে আট বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ খাইরুন নেছা আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক রিংকু।
দণ্ড পাওয়ারা হলেন- নওগাঁ জেলার বাসিন্দা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু ওরফে সামাদ ওরফে রাজীব এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান এবং দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।
মামলার বরাতে পিপি কাইমুল বলেন, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ কুমিল্লা শহরের বিষ্ণুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে বিস্ফোরকসহ মোস্তাফিজুর ও খালেদাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে খালেদার স্বামী দুরুল হুদাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই সময় তারা বলেন, জেএমবির শূরা সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহসহ তারা বিষ্ণুপুরের ‘রওশন ভিলায়’ বোমা তৈরির সরঞ্জাম মজুদ করেন।
জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান ও শূরা সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহ তাদেরকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম মজুদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানান পিপি।
পিপি কাইমুল বলেন, পরে এ ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। বিচারিক কার্যক্রমে দুই পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ৩২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আদালতে সাক্ষী ও আসামিদের জবানবন্দি এবং জব্দ তালিকা অনুযায়ী বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দুই আসামিকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর আসামি নারীকে আট বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় পুলিশ পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান পিপি।
এ মামলার অপর আসামি জেএমবির সূরা সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহ একটি হত্যা মামলায় আগেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাকে নিয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি বলে জানান কাইমুল হক।