ব্যাংকের মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরছাড়া পাবনার ২৫ কৃষক

কৃষকরা দলগতভাবে ১৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১৩ লাখ টাকা পরিশোধও করেছেন। কিন্তু সুদাসলে পাওনা ১২ লাখ টাকার জন্য মামলা করে ব্যাংক।

পাবনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 Nov 2022, 03:29 PM
Updated : 26 Nov 2022, 03:29 PM

পাবনার ঈশ্বরদীতে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তারের পর ১২ কৃষককে কারাগারে পাঠানোয় বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছেন বাকি ২৫ জন।

চরম আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তায় সময় অতিবাহিত করছেন ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের এই ৩৭ কৃষকের পরিবারের সদস্যরা। অধিকাংশ পরিবারই জানেন না কি করে আদালতের মাধ্যমে জামিন করাতে হয়।

শনিবার গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রামের অধিকাংশ বাড়িই পুরুষ শূন্য। যারা আছেন তারাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন, কি বলতে কি বলে ফেলবেন ভেবে।

গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হতদ্ররিদ্র এসব কৃষকরা সবাই ভাড়ইমারি উত্তর পাড়া সবজি চাষি সমবায় সমিতির সদস্য। সমিতির মাধ্যমেই ২০১৬ বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক থেকে গ্রুপ ভিত্তিক একটি ঋণ নেন তারা। যেই ঋণের টাকা অনেকেই পরিশোধ করার দাবি করলেও পরিশোধের কাগজপত্রও তাদের কাছে নেই।

কৃষকরা বলেন, বিষয়টি তাদের ধারণায়ও ছিল না। তারা সবাই মূর্খ মানুষ, মাঠে কাজকর্ম করেই দিন পার করেন। অনেকেই বিষয়টি ভুলেও গিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই কৃষকদের গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

গ্রেপ্তারদের পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা আইন আদালত সেভাবে বুঝেন না। যাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তাদের ছাড়ানোর জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যেরে কাছে তারা গিয়েছিলেন। তিনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তাদের ছাড়ানোর ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।

গ্রামের এই সমিতিটির সভাপতি ও ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস নাহার বলেন, ঋণের বরাদ্দ ছিল মোট ১৬ লাখ টাকা। তা ৩৭ জনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। তবে কেউ একটু কম, কেউ বেশি করে নেয়। অনেকেই এই ঋণের টাকা পরিশোধ করেছেন। আবার অনেকের দুই থেকে পাঁচ হাজার বাকি আছে।

“তবে সাতজন কৃষক টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে গ্রুপ ভিত্তিক ঋণের কারণে সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যারা টাকা পরিশোধ করেছেন তাদের অনেকের কাছে পরিশোধের রশিদও নেই।”

তবে যত দ্রুত সব কৃষকের জামিনের ব্যবস্থা করা সম্ভব চেষ্টা করছেন বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি।

ওই গ্রামের বাসিন্দা এক স্কুল শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা যতটুকু শুনেছি, সেটা হলো ১৬ লাখ টাকা ঋণ নিলেও কৃষকরা ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। তারপরও নাকি ১২ লাখ টাকা পাওনা থাকায় সমবায় ব্যাংক মামলাটি দায়ের করে। বর্তমানে ওই সমিতির সদস্যদের এতো টাকা পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য আছে বলে আমার মনে হয় না।”

ছলিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা বলেন, “বিষয়টি যদিও কষ্টের, তবুও ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী ব্যাংক কাজ করেছে। বিষয়টি আমাদেরও জানা ছিল না। আমি ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে খোঁজ খবর নিয়ে অতি দ্রুত একজন আইনজীবী নির্ধারণ করার কথা বলেছি।

“গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশের ভয়ে লোকজন হয়ত পালিয়ে আছে। আমি নিজেও থানার ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলবো। একেবারেই লেখাপড়া না জানা কৃষক, তারা আইন-আদালত খুবই ভয় পায় বলেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।”

ঋণ খেলাপির মামলায় ভাড়ইমারি গ্রামের ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি অরবিন্দ সরকার। 

আরও পড়ুন

Also Read: পাবনায় ২৫-৩০ হাজার টাকা ঋণের মামলায় ১২ কৃষক কারাগারে

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক