Published : 19 Sep 2025, 01:36 PM
নাটোরে ভুল চিকিৎসার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আল-হেরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের এক হাসপাতালের সব প্রকার চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নাটোর শহরের কানাইখালীতে অবস্থিত হাসপাতালে গিয়ে এই নির্দেশনা দেন নাটোরের সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরফিন।
ভুক্তভোগী মানিক মিয়া একজন পোশাক কর্মী, তিনি নাটোরের একডালা নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা।
তার স্বজনদের অভিযোগ, স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের কথা বলে রোগীর পেট কাটা হলেও অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপসারণ না করে পুনরায় সেলাই করে দেওয়া হয়েছে। উল্টো নাড়ি ফুটো হয়ে রোগীর অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে।
অভিযোগের বরাতে সিভিল সার্জন আরেফীন বলেন, গত ২৭ জুলাই ওই রোগী তলপেটে ব্যাথা নিয়ে আল-হেরা হাসপাতালে ভর্তি হন। সেদিনই হাসপাতালটির মালিক ডা. শামিম উদ্দিন এক সহযোগী নিয়ে তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করেন।
পরে সপ্তাহখানেক রোগীকে হাসপাতালটিতে ভর্তি রেখে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে গিয়ে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে স্বজনরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
সেখানে আল-হেরা হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার বিষয়টি ধরা পড়ে।
পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল চিকিৎসার বিষয়টি লেখার কারণে রোগীর স্বজনদের হুমকি ধামকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে শামিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
মানিক মিয়ার ছেলে মো. রাব্বি ইসলাম বলেন, তার বাবাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার দেখে জানান, পেট কেটে শুধু সেলাই দিয়ে দিয়েছে। কোনো অপারেশন করা হয়নি। বরং তার বাবার নাড়িও ফুটো হয়ে গেছে, পেট দিয়ে শুধু মল বের হচ্ছে।
তার বাবা এখনো রাজশাহী মেডিকেলেই ভর্তি আছেন জানিয়ে রাব্বি বলেন, “খুব কষ্ট হচ্ছে আব্বার, শুধু জ্বলেপুড়ে যায়, চিল্লাচেল্লি করে। ডাক্তার বলছে, দুই একদিনের মধ্যে নিয়ে আসলে কিছু করা যেত কিন্তু এখন আর আড়াই তিন মাসের আগে নতুন করে অপারেশন করা যাবে না।
“আমরা গরিব মানুষ, গার্মেন্টেসে কাজ করে খাই। আমাদের সাথে ওই হাসপাতালের লোকজন কেন এমন করলো। আমরা তাদের বিচার চাই।”
এ বিষয়ে হাসপাতালটির মালিক ও চিকিৎসক শামিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘মোবাইলে কথা বলবেন না, সাক্ষাতে কথা বলবেন’ জানিয়ে লাইন কেটে দেন।
সিভিল সার্জন আরেফীন বলেন, “রোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে তথ্য-প্রমাণ সঠিক বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
এদিকে, নাটোর ক্লিনিক মালিক এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা রোগীর জন্য ১০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছেন এবং আল-হেরা হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দিয়েছেন।