Published : 18 Oct 2025, 09:17 PM
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের বিপ্লবী নেত্রী ইলা মিত্রের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের ব্যানারে এই আয়োজনে করা হয়।
শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, গোমস্তাপুর ও সদর উপজেলার আদিবাসী হাজারো নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। এ উপলক্ষে জেলা শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ে শোভাযাত্রা হয়।
সকাল ১১টায় ফায়ার সার্ভিসের মোড়ে বেজে উঠলো টামাক, মাদল, ঢাক-ঢোল, করতাল। তার সঙ্গে নেচেগেয়ে স্লোগান উঠলো, ‘রানীমা আছে, ইলা মিত্র আছে’, ‘ইলা মিত্র ইলা মিত্র, কৃষকের রানী ইলা মিত্র’, ‘শুভ শুভ শুভদিন, ইলা মিত্রের জন্মদিন’।
প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের পৌর পার্কে গিয়ে অনুষ্ঠানে মিলিত হয়। পরে সেখানে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জন্মশতবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা।
এরপর তেভাগা আন্দোলনের বিখ্যাত গান ‘হেইসা মালো ধান হো...’ গানের মধ্য দিয়ে ইলা মিত্রকে নিয়ে গীতি আলেখ্য উপস্থাপন করছে কোল জাতির শিক্ষার্থীরা। সদর উপজেলার ফিল্টিপাড়া মহল্লার কোল শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক বঙ্গপাল সরদার। অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক, একই বিভাগের অধ্যাপক উদায় শঙ্কর বিশ্বাস, রাজশাহী উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক আবদুস সবুর, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি বিচিত্রা তিরকি, রাজশাহী ইলা মিত্র শিল্পী সংসদের সভাপতি তাপস মজুমদার, আদিবাসী লেখক ও গবেষক মিথু শিলাক মুর্মু, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি হিঙ্গু মুর্মু।
অবিভক্ত ভারতবর্ষের কলকাতায় ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ইলা মিত্র জন্মগ্রহণ করেন। বাবা গগেন্দ্রনাথ সেন ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের অধীন বাংলার অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল। তাদের আদিনিবাস ছিল ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রামে। ইলা মিত্র ১৯৪৪ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন।
তৎকালীন মালদহের নবাবগঞ্জ থানার রামচন্দ্রপুর হাটের জমিদার মহিমচন্দ্র ও বিশ্বমায়া মিত্রের ছোট ছেলে রমেন্দ্র নাথ মিত্রের সঙ্গে বিয়ের পর বেথুনের তুখোড় ছাত্রী ইলা সেন হলেন জমিদার পুত্রবধূ ইলা মিত্র।
ছাত্রজীবনেই ইলা মিত্র কমিউনিস্ট আদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাই স্বামীর আদর্শ ও পথচলার সঙ্গে সহজেই নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছিলেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর নবাবগঞ্জ অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন ইলা মিত্র।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে বঙ্গপাল সরদার বলেন, “ইলা মিত্র আমাদের লড়াই করে বাঁচতে শিখিয়ে গেছেন। আমাদের লড়াই করে বাঁচতে হবে। সেই লড়াই এখনো করে যেতে হবে। আমরা কি আমাদের অধিকার পেয়েছি, পাইনি। এখনো সেই লড়াই করেই যেতে হবে আমাদের।”