১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দৃষ্টিহীনতার কাছে হার মানেনি নাগরিক দায়িত্ব

“অন্য বছরের তুলনায় আজকের ভোটটা অন্য রকম। দেশের নাগরিক হিসেবে একটা ভোট দিতে আমরাও চাই। এতে অন্য রকম একটা আনন্দ লাগে।”

বিডিনিউজ২৪

সৌরভ হোসেন সিয়াম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Feb 2026, 05:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:56 PM

“ভোট দিয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালন করলাম,” স্বাভাবিক কণ্ঠেই কথাটি বলছিলেন এক ব্যক্তি। সঙ্গে ছিলেন আরও দুইজন। তাদের দুজন শৈশবে দৃষ্টি হারিয়েছেন, আরেকজন জন্মান্ধ।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের হাজী শামসুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাদের সঙ্গে কথা হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ভোটাধিকার প্রয়োগে পিছিয়ে থাকেননি তারা।

মো. জুয়েল, মনির হোসেন ও মো. জসিম জেলায় জেলায় ঘুরে কখনও হকারি করে, কথনও ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন বলে জানান তারা। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছেন এবং গণভোটেও অংশ নিয়েছেন। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা তাদের সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তারা।

জুয়েল ও মনির ভোট দিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ কেন্দ্রে। জসিম ভোট দিয়েছেন ফতুল্লার মাহমুদপুরের একটি কেন্দ্রে। তারা রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ও মানিকনগরে ভাড়া থাকলেও নারায়ণগঞ্জের ভোটার। ভোট দিতে আসতে তাদের প্রায় দুইশ টাকা খরচ হয়েছে। তবে এতে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানান তারা।

মনির হোসেন বলেন, “অন্য বছরের তুলনায় আজকের ভোটটা অন্য রকম। দেশের নাগরিক হিসেবে একটা ভোট দিতে আমরাও চাই। এতে অন্য রকম একটা আনন্দ লাগে।”

যাত্রাবাড়িতে ভাড়া থাকেন জানিয়ে তিনি বলেন, “কেন্দ্রে এসে অনেকের সঙ্গে কথা হলো। ঈদের মতো একটা আমেজ-আনন্দ ছিল।”

মানিকনগরের বাসিন্দা জুয়েল বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও নাগরিক দায়িত্ব পালনে ভোট দিতে এসেছেন তিনি। মঙ্গলবার জীবিকার কারণে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ছিলেন। সেখানে রাজশাহীগামী ‘সিল্ক সিটি’ ট্রেনে গ্রামমুখী মানুষের ভিড় দেখে তিনিও ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জসিম বলেন, “সিট না পেয়ে অনেকে ট্রেনের ছাদেও উঠছিলেন। সবাই আনন্দ করে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। এটা দেখে আমিও বাসা থেকে ২০০ টাকা খরচ করে ভোট দিতে আসছি। শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছি, এটাই আনন্দ।”

আগামী সরকারের কাছে কিছু দাবিও জানান তারা। 

জসিম বলেন, “আমরা প্রতিবন্ধী মানুষ। আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে, তাদের বেতন যেন মাফ করা হয়। আমরা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্তি পেতে চাই।”

মাসে ৮৫০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পান জানিয়ে মনির বলেন, “এই ভাতা এক মাসের চায়ের পয়সাও না। যে সরকারই আসুক, বিষয়টা যেন বিবেচনা করে। একজন মানুষের মাসে কত টাকা প্রয়োজন, সেটা দেখে ভাতা নির্ধারণ করা উচিত।”

দেশের নাগরিক হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তারা। কথা শেষে স্থানীয় এক নারীর সহায়তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়া করে কেন্দ্র থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনজন।