Published : 10 May 2026, 08:10 PM
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে আসামির ডিএনএ সংরক্ষণেরও আদেশ দেন বিচারক।
রোববার বেলা সোয়া ২টার দিকে নেত্রকোণার মদন আমলি আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মোহসিনা ইসলাম এই আদেশ দেন বলে জানান আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) সোহরাওয়ার্দী।
তিনি বলেন, তিন দিনের রিমান্ড শেষে রোববার আসামি সাগরকে আদালতে সোপর্দ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার এসআই আক্তারুজ্জামান। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে কারাগারে আটক রাখা এবং আসামির ডিএনএ সিআইডির মাধ্যমে সংরক্ষণের জন্যে আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
এসআই আক্তারুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটি আদালতে বিচারকের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে সাগর তাকে ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে। কিন্তু তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেননি সাগর। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
শিশুর জবানবন্দী, সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যাদিসহ আরো অন্যসব কিছু মিলিয়ে তদন্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এ তদন্ত কর্মকর্তা।
আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
তার বিরুদ্ধে করা মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, সাগর তার নিজের মাদ্রাসায় ১১ বছরের শিশুকে বেশ কয়েকদিন ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসকের কাছে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে।
এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। বাদীর অভিযোগ, টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা ও মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন সাগর।
মামলার পর থেকেই সাগর মাদ্রাসা বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। পরে ৬ মে ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন ৭ মে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আগের সংবাদ
‘ধর্ষণে’ অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের ছাত্রী: নেত্রকোণার সেই মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে
নেত্রকোণায় শিশু ‘ধর্ষণ’: জিজ্ঞাসাবাদে কিছুই ‘স্বীকার করেননি’ মাদ্রাসাশিক্ষক
নেত্রকোণায় শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় সেই মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
নেত্রকোণায় ছাত্রী ‘ধর্ষণ’: টাকা দিয়ে মীমাংসা চেয়েছিলেন সেই মাদ্রাসা শিক্ষক