Published : 15 Sep 2026, 08:58 PM
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় কথিত প্রেমিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই স্কুল ছাত্রী মারা যায় বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে উপজেলার ভিতরগড় এলাকার সোহেল (২৫) ও তার সহযোগী ইজিবাইক চালক রফিকুল ইসলাম বাঘা মন্টু (২৩)।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সোহেল পেশায় রাজমিস্ত্রি। ওই ছাত্রী স্কুলে যাতায়াতের পথে তাকে বিরক্ত করতেন সোহেল। এক পর্যায়ে মেয়েটির সঙ্গে তিনি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
এ সম্পর্কের জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন সোহেল। পরে রফিকুলের ইজিবাইকে তুলে রাজমহল পূর্ববাগান এলাকার আবু সায়েদের বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে সোহেল সহযোগীদের সহায়তায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখার হুমকি দিয়ে তাকে রাত ২টায় মডেলহাটগামী একটি ইজিবাইকে তুলে দেন।
কিন্তু পথে একা পেয়ে ওই অজ্ঞাত ইজিবাইক চালক ও দুই যাত্রী স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে। এ সময় ইজিবাইক থেকে লাফিয়ে নেমে স্থানীয় এক ট্রলি চালকের সহযোগিতায় রক্ষা পায় স্কুলছাত্রী। পরে ট্রলি চালক মোবাইলে খবর দিলে স্কুলছাত্রীর ভাই এসে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়।
এর মধ্যে ‘প্রেমিক’ ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করায় রাগে-ক্ষোভে পরদিন সকালে বিষপান করে ওই স্কুলছাত্রী। পরিবারের সদস্যরা তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে মারা যান তিনি।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, “বিষপান করায় ওই স্কুল ছাত্রীকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে আমরা জানতে পারি তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তার মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।”
এর আগে রোববার পঞ্চগড় সদর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে সোহেলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছিলেন স্কুলছাত্রীর বড় ভাই।
মামলার বাদী বলেন, “আমার বোন না গেলে নাকি বাঁচবে না- এমন সব কথা বলে সোহেল তাকে নিয়ে গিয়েছিল। আমি এই নরপশুদের ফাঁসি চাই।”
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, এর মধ্যে মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।