Published : 21 Aug 2026, 08:34 PM
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব রুহুল কবির রিজভীকে দেওয়ায় তার জন্মস্থান কুড়িগ্রামে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। তার দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করে বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়াও করা হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর জেলার বিভিন্ন মসজিদে রিজভীর জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে বিকালে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে কলেজ মোড়ের দোয়েল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্যসচিব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু ও হাসিবুর রহমান হাসিবসহ দলের নেতারা।
বক্তারা বলেন, রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার নতুন দায়িত্বে কুড়িগ্রামবাসী গর্বিত ও আনন্দিত। তারা রিজভীর দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, রুহুল কবির রিজভী কুড়িগ্রামের মানুষের গর্ব। শৈশবে তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি দলের শীর্ষ পর্যায়ে এসেছেন।
যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, রিজভীর শৈশব কুড়িগ্রামে কেটেছে। জন্মস্থানের প্রতি তার টান রয়েছে। বন্যা, নদীভাঙন ও শীতসহ বিভিন্ন দুর্যোগে তিনি কুড়িগ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রিজভী নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের সঙ্গে ছিলেন। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু করে তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রিজভীর মতো ত্যাগী নেতা দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় কুড়িগ্রামবাসী আনন্দিত। তার এই দায়িত্বে জেলার মানুষ গর্বিত।
রুহুল কবির রিজভীর জন্ম কুড়িগ্রাম জেলা শহরের হিঙ্গণরায় সর্দারপাড়া এলাকায়। শৈশবে তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। উচ্চমাধ্যমিকের পর বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে ছাত্রদলে যোগ দেন এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন রিজভী। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।