Published : 15 Aug 2025, 11:15 PM
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলামের ‘কলিজা খুলে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে শোকজ করেছে দলটি।
সেইসঙ্গে নাঙ্গলকোট উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন করায় কারণ দর্শানোর নোটিশে তার কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে আগামী তিন দিনের মধ্যে গফুর ভূঁইয়ার কাছে শোকজের জবাব চাওয়া হয়েছে।
শোকজ পাওয়া আবদুল গফুর ভূঁইয়া ২০০১ সালে কুমিল্লা-১১ আসনের (নাঙ্গলকোট) সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বিএনপির নাঙ্গলকোট উপজেলা কমিটির সদস্য।
সম্প্রতি গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামছুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
অডিওতে উত্তেজিত কণ্ঠে গফুর ভূঁইয়াকে বলতে শোনা যায়, “আপনার কত বড় কলিজা হয়েছে আমি দেখে নেব। আপনাকে কে বসিয়েছে? তার কলিজা খুলে ফেলব। আপনার কলিজাও খুলে ফেলব। বেয়াদবিরও একটা সীমা আছে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনি এটা সুন্দরভাবে না করলে আপনার ক্ষতি হবে। আমি আপনাকে দেখে নেব। আমি টোকাই না, আইন জানি।”
এ ছাড়া অডিওতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসককেও গালমন্দ করতে শোনা গেছে গফুর ভূঁইয়াকে।
এ ঘটনার পর শুক্রবার গফুর ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিএনপি। নোটিশে গত ১১ ও ১২ অগাস্ট নাঙ্গলকোট উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বিএনপির ইউনিয়ন সম্মেলন করার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।
হুমকির বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য গফুর ভূঁইয়া বলেন, “এটি এডিট করা অডিও। এমন কিছু ঘটেনি। কিছু কথা এডিট করা হয়েছে। ওনার কলিজা নিয়ে যাওয়া এবং ডিসিকে গালমন্দ করা কথাগুলো এডিট করা হয়েছে।”
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার বলেন, “আমার সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্যের কোনো কথা হয়নি। ওনার সঙ্গে বোর্ড চেয়ারম্যানের কথা হয়েছে। হয়ত ওনাকে গালিগালাজ করেছেন।”
শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম বলেন, “এটি তিন মাস আগের ঘটনা। একটি প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটি নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।”