পূর্বাচল লেকে কিশোরীর পর মিলল কিশোরের মরদেহ
সুজানা ও কাব্য পরষ্পরের বন্ধু ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।
একদিনের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলের একটি লেক থেকে দুই কিশোর-কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবার বলছে, তারা দুজন বন্ধু ছিল।
মঙ্গলবার সকালে লেক থেকে ১৭ বছর বয়সী সুজানা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে তার ভ্যানিটি ব্যাগ ও একটি হেলমেট পাওয়া যায়।
আর বুধবার সকালে লেকের কাছাকাছি জায়গা থেকে ১৬ বছর বয়সী সাঁইনুর রশীদ কাব্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জানান।
লেক থেকে কাব্যের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয় বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
কাব্য ও সুজানা দুজনের বাসাই মিরপুরের কাফরুল থানার কচুক্ষেত এলাকায়। কাব্য আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার দশম শিক্ষার্থী। আর সুজানা দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
কাব্যের মা সোনিয়া রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয় সে। রাত ৯টার দিকে সর্বশেষ মোবাইলে ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়।
এরপর রাতে বাসায় না ফেরায় রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন পরিবারের সদস্যরা।
সুজানাকে প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হলেও বিকালে তার মা চম্পা বেগম মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছিল, সোমবার বিকালে বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বের হয়েছিল সুজানা৷ রাতে আর ফেরেনি৷ গণমাধ্যমে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে জানার পর তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মরদেহটি সুজানার বলে শনাক্ত করেন৷
কাব্যের পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা জানতেন সুজানা ও কাব্য দুজন বন্ধু। বছরখানেক আগে একটি কোচিং সেন্টারে তাদের পরিচয়। সুজানা মাঝে মাঝেই কাব্যদের বাসায় যেত। তবে এদিন দুজন একসঙ্গে বেরিয়েছে সেটা পরিবারের লোকজন জানত না।
দুজনের মরদেহ উদ্ধারের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার সাংবাদিকদের বলে, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলের উচ্চগতির কারণে কালভার্ট থেকে হয়ত ছিটকে পড়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
