Published : 28 Nov 2024, 11:11 PM
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তৈরি পোশাক শ্রমিক রাকিব বেপারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশালের জম্বুদ্বীপ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয় বলে বানারীপাড়া উপজেলার ওসি মো. মোস্তফা জানান।
তিনি বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়জিদ উর রহমানের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা সিআইডির একটি দল কবর থেকে লাশ উত্তোলন করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর আবার দাফন করা হবে।”
বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা রাকিব বেপারী (২৪) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ২১ জুলাই ফতুল্লার পোস্ট অফিস এলাকায় বাজার করতে বেরিয়ে আন্দোলনকারী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রাকিব।
ফতুল্লার খানপুর হাসপাতালে গিয়ে রাকিবের লাশ শনাক্ত করেন বাবা মোশারেফ হোসেন। ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ ওই দিন রাতেই জম্বুদ্বীপ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ২২ জুলাই সকালে বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দিনমজুর বাবা মোশারেফ হোসেন, মা রাশিদা বেগম, প্রতিবন্ধী বড় ভাই শাকিল ও নবপরিণীতা স্ত্রী জান্নাতকে নিয়ে ফতুল্লায় ভাড়া বাসায় থাকতেন রাকিব বেপারী। জম্বুদ্বীপ গ্রামে রাকিবদের কোনো ঘর নেই। জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করেন তার চাচা নুরুল হক।
বানারীপাড়ার ইউএনও বায়েজিদ উর রহমানের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন, বানারীপাড়া থানার এসআই মো. নুরুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে কবর থেকে রাকিবের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “রাকিবের মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।”
বানারীপাড়ার ইউএনও বায়েজিদ উর রহমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত রাকিব বেপারীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে তার মরদেহ পুনরায় দাফন করা হবে।”