Published : 16 Dec 2022, 01:48 PM
নেই করোনা বিধিনিষেধ, আবহাওয়াও অনুকূল। বিজয় দিবস ধরে বেচাকেনাও ভালো হয়েছে। তাই মৌসুমের শুরুতেই উৎফুল্ল হয়ে উঠেছেন ফুলের রাজ্য যশোরের গদখালীর চাষিরা।
সারা বছর বিক্রি হলেও মধ্য ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়কেই ফুলের মৌসুম বলে মনে করেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস থেকে শুরু করে বাংলা ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ পর্যন্ত দেশে ফুলের চাহিদা বেশি থাকে।
এই দুই বিশেষ দিবস ছাড়াও ১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা ও বসন্ত দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে ফুল বেশি বিক্রি হয়।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ও পানিসারা ইউনিয়নের বহু চাষি আছেন যারা দীর্ঘদিন ফুল চাষের সঙ্গে যুক্ত। তাদের উৎপাদিত রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকাসহ ১১ ধরনের ফুল সারা দেশের মানুষের মন রাঙাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গদখালীর পানিসারায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠে শুধু ফুল আর ফুল।মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, রজনীগন্ধাসহ নানা ধরনের ফুল।
এই বিশেষ দিনগুলোকে সামনে রেখে নানান জাতের ফুলের চারা রোপণ ও পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গদখালীর চাষিরা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুল চাষে লাভবান হবেন বলে আশা তাদের।
ফুল চাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, “করোনার কারণে গত দুই বছরে আমরা ফুল চাষে তেমন কোনো লাভ করতে পারিনি। লোকসানের কারণে অনেকেই ফুলের ক্ষেতে সবজিসহ অন্যান্য ফুল চাষ শুরু করে। এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই।
“যেসব চাষিরা ফুল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তারা ফের ফুল চাষ শুরু করেছেন। আশা করা যাচ্ছে এবার প্রত্যাশার চেয়ে ফুল বিক্রি সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গোলাপ ও গাদা ফুল বিক্রি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গদখালীর ফুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি পিস গোলাপ তিন টাকা, রজনীগন্ধা চার টাকা, জারবেরা আট থেকে দশ টাকা, গ্লাডিওলাস আট থেকে ১৫ টাকা, একশ পিস চন্দ্রমল্লিকা ১৫০ টাকা, এক হাজার গাঁদা ফুল ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফুল বিক্রেতা আমিনুর রহমান বলেন, বিজয় দিবসের কারণে ফুলের দাম বেড়েছে। বিক্রিও ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর আগেভাগেই বাজারে ফুল এসেছে। দিন যত যাবে ততই এর চাহিদা বাড়বে বলে তিনি জানান।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থেকে আসা পাইকার ব্যবসায়ী শাহিদুর রহমান বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে ফুল নিতে তিনি তিন দিন ধরে এখানে আছেন। ফুল কিনে তিনি পরিবহনে ঢাকায় পাঠিয়েও দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকায় ফুল এখনো বাজারে তোলার সময় আসেনি। বিশেষ করে গদখালীতে আগেভাগেই গোলাপের সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে এখান থেকে ফুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, করোনার ধকল কাটায় এবছর প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফুল চাষ হয়েছে গদখালীতে। এর মধ্যে ক্ষেতের ফুল বাজারে আসতে শুরু করেছে। বছরের প্রথম বড় একটি বাজারে ভালো দামে ফুল বিক্রি করতেও পেরেছেন চাষিরা।
সামনের দিনগুলোতেও চাষিরা ভালো দাম পাবেন বলে তিনি আশা করেন।
তিনি বলেন, “ফুলের উৎপাদন ভালো হলেও একশ্রেণির ব্যবসায়ী প্লাস্টিকের ফুল সরবরাহ করে বিভিন্ন বড়বড় অনুষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্যে দেশের ফুল চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফুল চাষিদের দাবি, সরকার যেনো প্লাস্টিকের ফুল সরবরাহ বন্ধ করে কাঁচা ফুল ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহিত করে।”
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, “ঝিকরগাছার গদখালী, পানিসারা ছাড়াও জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে নানান জাতের ফুলের চাষ রয়েছে। এসব ফুল চাষে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষককে নানাভাবে সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুল চাষিরা ভালো ফলন পাবেন এবং আগামী বিশেষ দিনগুলোতে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।”