Published : 09 Jun 2026, 06:43 PM
কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলায় এক বাড়িতে ডাকাতির পর মা ও তার কিশোরী মেয়েকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মা ও মেয়েকে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মাতামুহুরী উপজেলার রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩) ও তার ভাই কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইট্ট্যা (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), মেহেদী হাসান (২৪) এবং মোহাম্মদ তারেক (২৬)।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের বরাতে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি চকরিয়া সার্কেল) অভিজিৎ দাস বলেন, “৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। এরপর তারা ৪০ বছর বয়সী মা এবং তার ১৫ বছরের কন্যাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
“হামলার সময় ওই নারীর পাঁচ বছর বয়সী এক সন্তানও বাড়িতে ছিল। নারীর স্বামী ব্যবসার কাজে চট্টগ্রামে বসবাস করেন।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এএসপি অভিজিৎ দাস বলেন, “স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এই ঘটনার জন্য দায়ী।”
ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, একই চক্র এর আগেও একাধিকবার এই পরিবারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন। গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর এক মামা সাংবাদিকদের বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার ভাগনির অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
তিনি বলেন, “ওই অপরাধী চক্রটি এর আগেও তাদের পরিবারের ওপর দুই থেকে তিনবার হামলা চালিয়েছে। জিসান ও তার ভাইসহ চক্রটির কয়েকজন সদস্য এলাকায় সবচেয়ে ভয়ংকর ও কুখ্যাত অপরাধীদের মধ্যে রয়েছে।”
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, “হামলায় জড়িতদের একজনকে কয়েকদিন আগেই অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার আসামি ওই ব্যক্তি জিসান নামে পরিচিত। হামলার মাত্র পাঁচদিন আগে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।”