Published : 08 Feb 2026, 09:08 AM
রাজধানীর নিকটবর্তী জেলা, অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থিত কুমিল্লা সবসময়ই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, এখান থেকে একাধিক সংসদ সদস্য মন্ত্রিপরিষদে জায়গা করে নেন।
১১টি সংসদীয় আসনের এই জেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপির বিপুল আধিপত্যের পাশাপাশি এখানে জামায়াতে ইসলামীর জয়ের ইতিহাস ও শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। ৫ অগাস্ট পরবর্তী আওয়ামী লীগবিহীন মাঠে এখন বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট।
কয়েকটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন, যা বিএনপিকে দলীয় বিভক্তির মধ্যে আরও বেশি কোণঠাসা করে ফেলেছে। বিভক্তি মিটে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; উপরন্তু কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী অবৈধ হওয়ায় এরই মধ্যে আসনে ধানের শীষ প্রতীকই নাই হয়ে গেছে।
সেখানে শেষ মুহূর্তে শক্তিশালী প্রার্থী এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বিএনপি এখন গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীককে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হবে কিনা তা নিয়ে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যেই আশঙ্কা রয়েছে।
বিএনপির প্রার্থীকে ঠেকাতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কুমিল্লা-১ আসনের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মনিরুজ্জামান
সাংগঠনিকভাবে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় বিভক্ত। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন রয়েছে। উত্তরে পাঁচটি আর দক্ষিণে ছয়টি আসন।
কুমিল্লা উত্তরের পাঁচটি আসনের ভোটের লড়াই নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সংবাদকর্মী মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলছিলেন, “এই অঞ্চলের আওয়ামী লীগের যে ভোটটা- সেটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। সামাজিক নিরাপত্তা, স্থানীয় স্বার্থ, ব্যক্তিগত সুবিধা ও যোগাযোগের কারণে সার্বিক দৃষ্টিতে যে এলাকায় যে প্রার্থীর অবস্থান শক্ত সেই প্রার্থীর দিকে এই ভোট যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেটাই জয়-পরাজয়ে বড় নির্ধারক হতে পারে।”
উত্তরের জেলায় বিএনপি পুরনো ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। এর মধ্যে এনসিপির শক্ত অবস্থান রয়েছে দেবীদ্বারে।
অপরদিকে দক্ষিণের ছয়টি আসন নিয়ে তিনি বলছিলেন, “এই অঞ্চলের আসনগুলোতে নির্বাচনি লড়াই অনেকটা একপেশে হয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। সেটা বড় দুটি পক্ষের জন্যই। যে কারণে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি একটা চ্যালেঞ্জ হবে। যাদের অনুসারী ভোটার বেশি কেন্দ্রে যাবে ফলাফল তার পক্ষে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ করে সেভাবে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন- এটা তেমন দেখা যাচ্ছে না।”
স্থানীয় পর্যবেক্ষক, ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে ১১টি আসনের একটি চিত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে- কুমিল্লা-১, ২, ৩, ৫, ৬, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর আসনে বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবর্তীর্ণ হতে হচ্ছে।
কুমিল্লা-৭ ও ২ নম্বর আসনে বিএনপির প্রার্থীর গলার কাঁটা হয়ে আছেন নিজ দলেরই বিদ্রোহী; যা থেকে ফায়দা নেওয়ার কৌশল খুঁজছে জামায়াতে ইসলামী।
আর কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপি ও কুমিল্লা-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামী বড় ধরনের আশাবাদ তৈরি করতে পেরেছে ভোটের মাঠে।
কুমিল্লা-১: বিএনপির প্রত্যাবর্তনের লড়াই
দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘেঁষা কুমিল্লা-১ আসন।
১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখেন। পরে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে দীর্ঘ সময় আসনটি হাতছাড়া হয়। ৫ অগাস্ট পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি মাঠে প্রভাব তৈরি করে।
এবারও প্রবীণ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রার্থী হয়েছেন। এখানে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমিয়ে তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের উত্তর জেলা কমিটির কর্মপরিষদ সদস্য ও দাউদকান্দি উপজেলা আমির মনিরুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ভোটারদের ধারণা, এই আসনে ব্যক্তি পছন্দ, দলীয় প্রতীক এবং এলাকাভিত্তিক জনপ্রিয়তা- সবকিছুই নির্বাচনে প্রাধান্য পাবে।
নিরাপদ সড়ক চাই, দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সভাপতি লিটন সরকার বাদল বলেন, “দাউদকান্দি ও মেঘনা দুই উপজেলা নিয়ে একটি আসন হলেও- এই দুই উপজেলার মাঝে কোনো সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। দুই উপজেলারই ভোটারদের প্রত্যাশা এই আসনে সড়ক ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন হোক। তারা ওই বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার ভোট দেবে।”
স্থানীয় ভোটার ও সংবাদকর্মী মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপির খন্দকার মোশাররফ, জামায়াতের মনিরুজ্জামান বাহালুল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে মাওলানা বশির আহমেদ-তিনজনের বাড়িই দাউদকান্দি উপজেলায়। সুতরাং আসনের অপর উপজেলা মেঘনার ভোটারদের টানতে তাদের অতিরিক্ত সময় ও চেষ্টা থাকতে হবে। এমনও হতে পারে মেঘনার ভোট এই আসনে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।”
বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “এ আসনের জনগণ দীর্ঘদিন ভোটবিহীন জনপ্রতিনিধি পেয়েছিল। জনগণ এবার নিজের হাতে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। তারা ধানের শীষেই ভোট দেবে। আগামী সরকার হবে জনগণের সরকার।”
জামায়াতের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা কাজ করছি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য। মানুষও আমাদের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রতি ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে। মেঘনাতেও আমাদের কার্যক্রম সমানভাবে চলছে। আশা করি আমরা বিজয়ী হব।”
এই আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৩০ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮৯, নারী ২ লাখ ১২ হাজার ৬২৮। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৫টির মধ্যে ৯৪টি প্রাথমিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ঘোষণা হয়েছে।
এখানে ভোটের মাঠে আরও রয়েছেন খেলাফত মজলিসের সৈয়দ আব্দুল কাদের (জামাল), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. আবুল কালাম।
কুমিল্লা-২: কোন্দলে অস্থির বিএনপি, সক্রিয় জামায়াত
হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসনটি একসময় বিএনপির শীর্ষ নেতা এম কে আনোয়ারের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তার মৃত্যুর পর এক ধরনের নেতৃত্ব-শূন্যতা তৈরি হয়। এবার এখান থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।
আবার এখানে বিদ্রোহী হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস আবদুল মতিন, তার মার্কা তালা। প্রচার শুরুর দিনেই সেলিম ভুইয়া ও আবদুল মতিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষেও ঘটনাও ঘটেছে।
জামায়াতে ইসলামী এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লাকে। আবার জাতীয় পার্টি থেকে ভোটের মাঠে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন ভূঁইয়া। চার প্রার্থীর প্রচারে ভোটের মাঠ জমে উঠলেও এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস দিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।
বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া বলেন, “হোমনা-তিতাসের মানুষ বিএনপিকেই ভালোবাসে। বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তারা তাকেই ভোট দেবে। আমরা চাই, বিরোধিতা ছেড়ে সবাই ধানের শীষের জয়ে কাজ করবে। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে চাই।”
বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ আবদুল মতিন খান বলেন, “জনগণের ইচ্ছায় আমি এখান থেকে নির্বাচন করতে চাই। আমরা কোনো বহিরাগত কাউকে এই আসনে নিজেদের প্রতিনিধি করতে পারি না। তাই আমি নির্বাচন করছি, এই এলাকার মানুষের জন্য।”
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আমরা মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করছি, জামায়াত কিভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করবে এবং করছে। বাংলাদেশের কল্যাণে জামায়াত কাজ করছে। তাই আমরা প্রত্যাশা করি, সাধারণ মানুষ আমাকে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী করবে।”
তিনি বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রত্যাশা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’। আমরা যেন হোমনা তিতাসের মানুষের কাছে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে প্রচার চালাতে পারি।”
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭৭৭ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার। আসনের ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৭টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন।
এখানে ভোটের মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফন্ট্রের আবদুস সালাম।
কুমিল্লা-৩: কায়কোবাদের ফেরা ও ‘সাবেক উপদেষ্টার প্রভাব’
মুরাদনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ২২টি ইউনিয়ন আছে। বেশ বড় এলাকা। এখানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ছয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
আওয়ামী লীগ আমলে তিনি দীর্ঘসময় এলাকায় আসতে পারেননি। ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি আবার এলাকায় ফিরেছেন। এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে ভোটের মাঠ অনেকটাই নিজের অনুকূলে নিতে পেরেছেন।
তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনা আছে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সমর্থন রয়েছে ইউসুফ সোহেলের প্রতি। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।
বিএনপি প্রার্থী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, “আমরা উন্নয়নের রাজনীতি করি। মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করতে চাই। এবার ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েই আবার মুরাদনগরের মাটি ও মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমি এখানে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল বলেন, “আমি মুরাদনগরের কল্যাণে নিজেকে সব সময় প্রস্তুত রাখি। তাই এবারও লড়াইয়ে আছি।”
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯১ হাজার ২২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৯ হাজার এবং নারী ২ লাখ ৪১ হাজার।
এখানে অন্য প্রার্থীরা হলেন-বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. খোরশেদ আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আহমদ আবদুল কাইয়ুম, এনডিএম এর রিয়াজ মো. শরীফ, আমজনতার দলের চৌধুরী রকিবুল হক, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শরীফ উদ্দিন সরকার।
কুমিল্লা-৪: সুবিধাজনক অবস্থানে হাসনাত আব্দুল্লাহ
নানা ঘটনার পর দেবীদ্বার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। সারাদেশে বিএনপির জন্য এটি ‘ব্যতিক্রম’ আসন।
শুধু এই একটি কারণেই এনসিপি হাসনাত আব্দুল্লাহর সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। বরং তিনি এই আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট থেকে আরও যে তিনজন প্রার্থী ছিলেন তাদের সবাইকে ‘বিদ্রোহ’ থেকে বিরত রাখতে পেরেছেন। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল ইসলাম শহিদ, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোজাফর রহমান। তারাও এখন শাপলা কলির পক্ষে কাজ করছেন।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর করা অভিযোগে ‘ঋণ খেলাপির তথ্য গোপনের কারণে’ বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ দেয় আদালত। ফলে এ আসনে বর্তমানে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। বিএনপি এখানে গণঅধিকার পরিষদের জসীম উদ্দিনের ট্রাক প্রতীকে সমর্থন দিয়েছে।
এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতেই নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেবিদ্বারের মানুষ প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে উন্নয়নবঞ্চিত ও অবহেলিত। এই অঞ্চল থেকে বহু রাজনৈতিক নেতা তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। এবার সুযোগ এসেছে সত্যিকারের জনসেবার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। আমি বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে দেবিদ্বারের জনগণ সত্য, উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে তাদের মূল্যবান রায় দেবেন।”
কুমিল্লা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। কুমিল্লা-৮ আসনে জামায়াত ইসলামীর শফিকুল আলম হেলালও ভোটের জন্য চষে বেড়াচ্ছেন জনপদ।
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, “আমি আগে থেকেই নিজের মত মাঠ গুছিয়ে রেখেছি। এখন বিএনপি নেতারাও আমার সঙ্গে প্রচার কাজ করছেন। আমি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।”
একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৪৮ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬০৩ জন। আসনের ১১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭০টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’।
কুমিল্লা-৫: দুই নতুনের লড়াই
বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে সবসময় আওয়ামী লীগের দাপট ছিল। এবার আওয়ামী লীগবিহিনী ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচির জসিম উদ্দিন এখানে ধানের শীষ প্রতীক এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোবারক হোসেন জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের শরিক এবি পার্টির যোবায়ের আহমেদ লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন। অপরদিকে মনোনয়ন নিয়ে এখানে বিএনপির মধ্যে যে বিভক্তি ছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে।
কুমিল্লা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। কুমিল্লা-৮ আসনে জামায়াত ইসলামীর শফিকুল আলম হেলালও ভোটের জন্য চষে বেড়াচ্ছেন জনপদ।
এখানে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, “আমি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে মানুষের কাছাকাছি আছি এবং থাকব- এটা এই এলাকার মানুষ জানে। তাই এবার তারা আমাকেই জয়ী করবে।”
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোবারক হোসেন বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছি। আমার প্রতিশ্রুতি শুনে মানুষ বলছে, আমাকেই ভোট দেবেন।”
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২৭ হাজার।
সীমান্ত এলাকা হওয়ায় আসনটির ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।
কুমিল্লা-৬: ‘স্বস্তিতে’ বিএনপি, তবে…
আদর্শ সদর, সিটি করপোরেশন ও সদর দক্ষিণ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে অনেক প্রতিবাদ, বিক্ষোভ হয়েছে। বিএনপি থেকে মনিরুল হক চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণার পর বিএনপি নেতা আমিনুর রশিদ ইয়াছিনও মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। প্রার্থিতা পরিবর্তনের দাবিতে হাজী ইয়াসিনের সমর্থকরা লাগাতার বিক্ষোভ করেছেন।
শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ডেকে ইয়াসিনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আর নিজের প্রার্থিতা নিয়ে মাঠে সক্রিয় হননি। এটি মনিরুলকে এক ধরনের স্বস্তি দিয়েছে। সম্প্রতি তারেক রহমান এই আসনে জনসভা করে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ এসেছে।
এখানে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদের। তিনি দলের দক্ষিণ জেলা কমিটির আমির। নগরীতে কিছু এলাকায় জামায়াতের জনপ্রতিনিধিও ছিল।
নির্বাচনের শুরু থেকে একক প্রার্থী থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রচারে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন দ্বীন মোহাম্মদ। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের দলগুলোও তাকে সমর্থন দিচ্ছে। সম্প্রতি জামায়াত আমির শফিকুর রহমান এই আসনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চেয়েছেন।
ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “দল এখন ঐক্যবদ্ধ। আমরা আগের চেয়ে শক্তিশালী। ভোটাররা আমাদেরকেই ভোট দিয়ে জয়ী করবে। আমরা বলছি, আমরা জয়ী হলে কুমিল্লার মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কোনো ঘাটতি রাখব না।”
কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, “৫ অগাস্টের পর এই আসনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা অনেক শক্তিশালী। ভোটাররাও আমাদেরকে ভোট দেবেন- ইনশাল্লাহ আমরা বিজয়ী হব।”
এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৩২ হাজার ৮৬২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজার এবং নারী ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার।
১৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন।
কুমিল্লা-৭: ‘দূরত্ব ঘোচানোর’ চ্যালেঞ্জে রেদোয়ান
বিএনপি থেকে চারবার সংসদ সদস্য হয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন রেদোয়ান আহমেদ। পরে তিনি এলডিপিতে গিয়ে মহসচিব হয়েছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এলডিপি ছেড়ে আবার বিএনপিতে এসে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন।
কিন্তু তার ঘাড়ে শ্বাস ফেলছেন দলের ‘বিদ্রোহী’ চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন। ‘বিদ্রোহী’ হওয়ায় এরই মধ্যে দল তাকে বহিষ্কার করেছে, আর তার কমিটিও স্থগিত করে দিয়েছে। কলসি প্রতীক নিয়ে তিনি ও তার সমর্থক নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, রেদোয়ান দীর্ঘদিন এলডিপির ব্যানারে রাজনীতি করেছেন। তখন বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। এখন আবার তিনি বিএনপিতে ফিরেছেন। তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচানো। এটি যদি তিনি করতে পারেন তাহলে এখানে ধানের শীষের পথ সুগম হবে।
চান্দিনা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা মোশারফ হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই আসন থেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের সোলাইমান খাঁন দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন।
একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৪। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ এবং নারী ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৭৮ জন।
আসনে ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৯টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন।
বিএনপি প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “আমি আগেও বিএনপির রাজনীতি করেছি, পরে এলডিপির হয়ে রাজনীতি করলেও খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমি যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীনও সদস্য। আমি চান্দিনায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন যোদ্ধা।”
তিনি বলছেন, “আমি যদি বিজয়ী হই, কখন কে এলডিপি করেছে বা কে বিএনপির করেছে - তা নিয়ে বৈষম্য করব না। এখন আমার কাছে সবাই একইভাবে মূল্যায়িত হবেন।”
নির্বাচন নিয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওনকে বার বার মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
কুমিল্লা-৮: ‘ঘাঁটি’ ফেরতে চায় বিএনপি
বরুড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে বিএনপি প্রার্থী দলের কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জামায়াত ইসলামীর অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল।
আসনটিতে ১৯৯১-২০০১ সাল পর্যন্ত তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন সুমনের বাবা বিএনপি নেতা এ কে এম আবু তাহের। পারিবারিক এই পরিচিতি ভোটের মাঠে সুমনকে অনেকটাই সুবিধা দেবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য শফিকুল আলম হেলাল একজন সুপরিচিত শিক্ষক। ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি এলাকায় গণসংযোগ বাড়িয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “আমার পরিবার এই অঞ্চলের মানুষের পুরোনো সেবক। আমাদের কোনো দুর্নাম নেই। তাই আমি আবার মানুষের কাছে সুযোগ চাই।”
জামায়াতের প্রার্থী শফিকুর রহমান হেলাল বলেন, “আমরা বিজয়ী হলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব। আশা করছি, মানুষ আমাকে বিজয়ী করবে।”
এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে আগে অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম মিলন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এবার তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। এখানে লাঙ্গল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মো. ইরফান।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৫ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজার।
১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন।
কুমিল্লা-৯: বিরোধ মিটেছে বিএনপির
লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নির্বাচনি লড়াই জমে ওঠেছে।
এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী দলের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম; যিনি ‘চৈতী কালাম’ নামে পরিচিত। আর জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী। দলের দক্ষিণ জেলা কমিটির এই সেক্রেটারি একসময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। এলাকায় তার ‘ভোট ব্যাংক’ রয়েছে।
বিএনপি অধ্যুষিত বলে পরিচিত আসনটিতে মনোনয়ন জটিলতায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি ছিল। ‘বিদ্রোহ’ করে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা। তিনি ফুটবল নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছিলেন। এ নিয়ে আসনে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী।
কিন্তু আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে দোলা ভোটের মাঠ থেকে সরে গেছেন। উপরন্তু কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট করছেন। এতে বিএনপির অস্বস্তি কেটেছে।
বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম বলেন, “এই আসনে দল এখন ঐক্যবদ্ধ। আমি বিজয়ী হলে ভোটার এবং দলের কোনো নেতাকর্মী বঞ্চিত হবেন না।”
দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, “আমি আগেও মানুষের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আশা করি, এবার সর্বোচ্চ পরিসরে সংসদ নির্বাচনেও এই এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে।”
এ আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মজলিসে শুরা সদস্য সেলিম মাহমুদ হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৩; এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৭ হাজার এবং নারী ২ লাখ ৩০ হাজার জন। ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন। এই আসনে মোট প্রার্থী আটজন।
কুমিল্লা-১০: সীমানা বিন্যাসের প্রভাব ভোটে
লালমাই ও নাঙ্গলকোট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আগে সদর দক্ষিণ উপজেলাও ছিল। নতুন সীমানা বিন্যাসের কারণে এখানে ভোট-রাজনীতির হিসাব পাল্টে গেছে।
এ আসনে আইনি জটিলতা কাটিয়ে ভোটের মাঠে ধানের শীষ নিয়ে ফিরেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও মজলিসে শুরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত।
এখানে প্রথমে গফুর ভুইয়া ধানের শীষ পেয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন থেকে তার মনোনয়ন বাদ হয়। পরে আইনি লড়াই করেও তিনি আর ফিরতে পারেননি। এই সুযোগে প্রার্থিতা পান যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
কুমিল্লা-১১ আসনে আবারো সংসদ সদস্য হতে উঠান বৈঠক-প্রচারে ব্যস্ত জামায়াতের নায়েব আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
নয় দিন পরে ভোটের মাঠে প্রচারে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই ধানের শীষ একটু পিছিয়ে আছে। তবে দলের নেতাকর্মীরা সেই ঘাটতি কাটানোর চেষ্টা করছেন দিনরাত প্রচারের মধ্য দিয়ে।
বিএনপির মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, “বিএনপির নেতাকর্মী সবাই আমার আপনজন। যে দ্বিধা ছিল তা কেটে গেছে। সবাই ধানের শীষে পক্ষে কাজ করবেন এবং আমাদের বিজয় হবে।”
জামায়াতের ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি।”
এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২২ হাজার ২৮৯। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৩ হাজার এবং নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার। আসনে ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৩টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে প্রশাসন।
কুমিল্লা-১১: জামায়াতের মরণপণ লড়াই
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দলটির নায়েব আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি ২০০১ সালে জোট প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এখানে দলের নিজস্ব ভোট রয়েছে।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে চৌদ্দগ্রামে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুদলই এখানে মরিয়া।
এ ছড়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানে উভয়েই নির্বাচনি সফরে চৌদ্দগ্রামে সমাবেশ করেছেন। দুজনই দলীয় প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়েছেন।
জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষ সবাই আমার আপনজন। আমি এই আসনের সন্তান এবং পরীক্ষিত। দলমত নির্বিশেষে মানুষ আমার পক্ষে থাকবে। আমি তাদের ভোট চাই।”
বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, “সময় বদলেছে- মানুষ এখন বিএনপিকে চায়।”