বাস চালককে লাঠি দিয়ে ‘পেটালেন’ ইউএনও, প্রতিবাদে শ্রমিক বিক্ষোভ
“ইউএনও বাসে উঠে আমাকে লাঠিপেটা করতে শুরু করে।”
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বাস চালককে লাঠি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবাদে শ্রমিকরা মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুই ঘণ্টা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “বাস চালককে ইউএনও লাঠিপেটা করছে অভিযোগে শ্রমিকরা প্রায় দুই ঘণ্টা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রমজানে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানার বিপরীতে পৌরসভার পাশে বাস দাঁড়াতে নিষেধ করেন প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার পাশে ‘ইসলাম পরিবহনের’ একটি বাস দাঁড় করানো কেন্দ্র করে মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম চালক মোহাম্মদ বুলু মিয়াকে লাঠিপেটা করেন। এতে তিনি তার বাম হাতে আঘাত পান।
আহত চালক বুলু মিয়া বলেন, “ঢাকা যাওয়ার জন্য ভাবকির মোড় থেকে বাসটি চালিয়ে পৌরসভার পাশে আসা মাত্রই ইউএনও বাসে উঠে আমাকে লাঠিপেটা করতে শুরু করে। এতে আমি মারাত্মক আহত হই। পরে আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতো বড় কর্মকর্তা এভাবে আমাকে মারবেন কখনও ভাবতে পারিনি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বাস চালক সাইফুল ইসলাম ও রুস্তম আলী বলেন, গাড়ি চালানো অবস্থায় একজন চালককে ইউএনও যেভাবে মারলেন, সেটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আরেক চালক সজল বলেন, “আমরা এর প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আপাতত প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছি।”
এদিকে অবরোধের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়া ময়মনসিংহ থেকে টাঙ্গাইলগামী ‘টাঙ্গাইল সুপার’ বাসের যাত্রী পারভীন আক্তার বলেন, “ইউএনও চালককে মারধর করেছে তাই চালকরা রাস্তা অবরোধ করেছে। কিন্তু আমরা তো ভোগান্তিতে পড়েছি। দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।”
মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বসে আমরা সমাধানের চেষ্টা করব। তবে চালককে মারধর ঠিক হয়নি। যদিও যানজট নিয়ন্ত্রণে সেখানে বাস না দাঁড়াতে নির্দেশনা ছিল।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) আতিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকভার কল করেও সাড়া মেলেনি।
