১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ‘অপহরণের চেষ্টা’: উল্টো হামলার অভিযোগ সোলায়মানের

স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, “আগেও বলেছি, এখনও বলছি আমাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল।”

স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ‘অপহরণের চেষ্টা’: উল্টো হামলার অভিযোগ সোলায়মানের

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Dec 2023, 11:01 PM

Updated : 25 Dec 2023, 11:01 PM

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

আলমডাঙ্গা এবং সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালার পক্ষে মামলাটি হয়।

এই আসনের নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন সোমবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে তার অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “মিথ্যাভাবে মামলা সাজানো হয়েছে। মিথ্যা মামলায় সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহম্মেদ হাসানুজ্জামান মানিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”

মামলায় যা বলা হয়েছে

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন আল আজাদ বলেন, শনিবার রাতে এ ঘটনায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালার প্রতিনিধি আব্দুল মালেক বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করেছেন। সে মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার নেতাকর্মীদের নিয়ে শনিবার রাতে সদর উপজেলার নতুন ভাণ্ডারদহ মোড়ে একটি নির্বাচনি ক্যাম্প উদ্বোধনের জন্য যান। তখন নৌকার সমর্থকরা তাদের আসতে বাধা তৈরি করে এবং রাস্তায় মিছিল করতে থাকে।

Image

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নৌকার প্রার্থী সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

একপর্যায়ে তারা ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ও তার লোকজনদের ধাক্কা দেওয়া শুরু করে। স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ধরে নিয়ে যাবে মর্মে টানা-হেঁচড়াসহ হুমকি দিতে থাকে। তখন পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করে।

নৌকার সমর্থকরা উচ্ছৃঙ্খল হয়ে দিলীপ কুমারসহ সমর্থকদের কিল-ঘুষি মারতে থাকলে সঙ্গে থাকা লোকজন তাদের নিবৃত্ত করে। একপর্যায়ে আসামিদের একজন প্রার্থীকে লক্ষ্য করে রামদা দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন তখন মাথা সরিয়ে তিনি রক্ষা পান।

পরে আসামিদের মধ্যে একজন প্রার্থীর মাথা লক্ষ্য করে গুলি করলেও সেটি ব্যর্থ হয়। পরে তাকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জাপটে ধরে অপহরণের চেষ্টা অব্যাহত রাখে বলে মামলায় বলা হয়েছ।

এই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন আল আজাদ।

তারা হলেন- সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলী আহম্মেদ হাসানুজ্জামান মানিক (৪০), ওই উপজেলার নতুন ভান্ডারদহ গ্রামের আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৪৫), মো. সুমন হোসেন (২১), একই উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামের মো. হাফিজুর রহমান (৪৫) ও ফুলবাড়ি গ্রামের জেহের আলী (২২)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “আসামিরা নৌকা প্রতীকের সমর্থক ও কর্মী। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে অপহরণ করার উদ্দেশ্যে নতুন ভান্ডারদহ গ্রামে আসেন এবং পিস্তল প্রদর্শন করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে দিলীপ কুমারকে অপহরণের চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাকে পিস্তল ধরে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আগেও বলেছি, এখনও বলছি আমাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল।”

যা বললেন নৌকার প্রার্থী

এ ঘটনায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, “ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পাঁচমাইল বাজারে স্থানীয় যুবলীগের একটি মিছিলে সুবদিয়া গ্রামের আবু তাহের বিশ্বাসের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।

“নৌকার প্রার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে উত্তেজনা ছড়ানো হয়। এর পরে রাত ৮টার দিকে পাশের নতুন ভান্ডারদহ গ্রামে নৌকার পক্ষে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলের পেছন দিকে ঈগল প্রার্থীর ব্যক্তিগত বডিগার্ড ও কয়েকজন কর্মী উপস্থিত হয়ে হ্যান্ডমাইক নিয়ে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে গালাগালি করতে থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “এক পর্যায়ে তারা রাস্তার ওপর মিছিল ও স্লোগান দিতে থাকে। তাদের পাশ কাটিয়ে নৌকার কর্মীরা যাওয়ার চেষ্টা করলে নৌকা প্রতীকের কর্মীদের ওপর হামলা করে ঈগল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা।”