Published : 03 Dec 2025, 04:52 PM
রাজশাহী নগরীর দরগাপাড়ায় দিঘাপতিয়ার জমিদার পরিবারের এক পুরনো বাড়ি ভাঙার সময় মাটির নিচে সুড়ঙ্গের সন্ধান মিলেছে।
জেলা প্রশাসনের নিলামে বিক্রি হওয়া এ স্থাপনাটি ভাঙতে গিয়ে বের হওয়া সুড়ঙ্গ ঘিরে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা।
রাজশাহীর পরিবেশবাদী সংগঠন হেরিটেজের প্রতিষ্ঠাতা মাহাবুব সিদ্দিকী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বাড়িটি ভাঙার কাজ চলছিল। মঙ্গলবার হঠাৎ মাটির নিচে সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া যায়।
বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন দিঘাপতিয়ার রাজা হেমেন্দ্র কুমার রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায়। স্থাপনাটির দুই পাশে দুটি একতলা ভবন, পেছনে একটি দোতলা ভবন এবং সামনে একটি ফুলের গাছ রয়েছে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহিনুল ইসলাম বলেন, সরকারি কাগজে বাড়িটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত। জরাজীর্ণ হওয়ায় জেলা প্রশাসন সেটি ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে। পরে ক্রেতা ভাঙার কাজ শুরু করলে নিচে সুড়ঙ্গের দেখা মেলে।

একটি সুড়ঙ্গের ভেতর জমে থাকা পানি বের হতে থাকায় সেখানে সেচযন্ত্র বসিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। এর সঙ্গে আরও একটি সুড়ঙ্গের সংযোগ রয়েছে।
বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দরগাপাড়া মৌজার ৫২৪ খতিয়ানের ওই জমির দাগ নম্বর ৪৭। ১৯৮১ সালে এটি অর্পিত সম্পত্তি ঘোষণা করা হয়।
রাজশাহীর কবি ও গবেষক তসিকুল ইসলাম বলেন, “বাড়িটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য যাচাই না করে ভাঙার জন্য নিলামে তোলা হয়েছে। স্বাধীনতার পর সরকার এটি ভাষাসৈনিক বেগম মনোয়ারা রহমানকে ইজারা দিয়েছিল। তিনি এখানে ‘মহিলা কুটিরশিল্প প্রতিষ্ঠান’ করেন।
“ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মনোয়ারার স্বামী এম আতাউর রহমান এবং শিক্ষাবিদ আ ন ম সালেহও এখানে বসবাস করেছেন।”
হেরিটেজ রাজশাহীর মাহাবুব সিদ্দিকী বলেন, “রাজশাহীর পরতে পরতে দিঘাপতিয়ার জমিদারদের অবদান আছে। এমন স্থাপনা ভাঙার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিহাস চর্চাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহিনুল ইসলাম বলেন, “বাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুড়ঙ্গের বিষয়ে সহকারী কমিশনার ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেলে এটি রক্ষা করা হবে।”
জেলা প্রশাসনের আহ্বানে পাঁচ সদস্যের একটি দল প্রাথমিকভাবে ওই সুড়ঙ্গ দেখে এসেছে জানিয়ে বরেন্দ্র জাদুঘরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার খন্দকার শামসুল আরিফিন বলেন, “বেশকিছু ছবিও তুলেছি। এখন আমরা কর্মকর্তাদের জানাব। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন এটি সংরক্ষণ যোগ্য কি না।”
তিনি বলেন, “আমি মনে করি এটি ব্রিটিশ আমলের তৈরি। বাড়ি শীতল রাখার জন্য নির্মাণের সময় এ ধরনের সুরঙ্গ তৈরি করা হতে পারে। এমন সুড়ঙ্গ আগেও পাওয়া গেছে।”