Published : 15 Sep 2026, 05:13 PM
বরিশাল নগরীতে ভাড়া বাসা থেকে জেলা আইনজীবী সহকারী (মুহুরি) সমিতির সাধারণ সম্পাদকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
‘পরকীয়া সম্পর্ক’ নিয়ে বিবাদের জের ধরে স্ত্রী তাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের।
মঙ্গলবার ভোরে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ড ইছাকাঠি কলোনির বাসার শয়ন কক্ষের খাটের ওপর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান।
নিহত নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) মুলাদী উপজেলার পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্ত্রী নাসিমা বেগমসহ (৩৮) ইছাকাঠি কলোনির আহসান হাবিবের বাসায় ভাড়া থাকতেন।
নিহতের ভাগ্নে মো. জামাল বলেন, তার মামা-মামীর দুই ছেলেমেয়ে, ছেলে মালেয়শিয়া প্রবাসী আর মেয়ের ঢাকায় বিয়ে হয়েছে, সেখানেই থাকে।
জামালের অভিযোগ, তার মামী (নাসিমা বেগম) পরকিয়া প্রেমে জড়িয়েছেন, তা নিয়ে মামার (নুরুজ্জামান হাওলাদার) সঙ্গে তার ঝগড়া হতো। এর জেরে সোমবার রাতে মামাকে কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে মাথার বাম পাশে ও বাম চোখের উপর আঘাত করে হত্যা করেছেন মামী।
পরে ঘরে থাকা টাকা-পয়সা, জমির দলিল, মামার মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যান।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মনোমানিল্য হয়।
“ধারণা করা হচ্ছে, এর জেরে স্বামী নুরুজ্জামানকে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে গভীর রাতে ধাতব কোনো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে নাসিমা বেগম।”
ওসি বলেন, পরে নাসিমা নগরীতে তার বোনের মেয়ের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি স্বামীকে হত্যার কথা জানান ও দলিল-দরকারি কাগজপত্র জমা রাখেন। এছাড়া সকালে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন জানিয়ে বের হয়ে যান।
পরে বোনের মেয়ে বিষয়টি নুরুজ্জামানের মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলেকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে
ওসি আরও বলেন, নাসিমা বেগম আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। তার বোনের মেয়ে পুলিশের হেফাজতে আছেন। তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিবেন।
এছাড়া পলাতক স্ত্রীকে আটক এবং এ হত্যায় অন্য কেউ জড়িত আছেন কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।