Published : 21 Jun 2026, 04:20 PM
তথ্য ফাঁস করলে পুলিশ কর্মকর্তাদের পিটিয়ে মারার জন্য গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ার কথা বলা খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা অফিস আদেশে তাকে সদরদপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। আদেশে অবশ্য এমন সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করা হয়নি।
কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, “অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল রোববারের মধ্যে স্টেশন ত্যাগ করে পুলিশ সদরদপ্তরে রিপোর্ট করবেন।”
রাশিদুল হাসান খান মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তার দেওয়া বক্তব্যের ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায়।
সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, “দারোগা বা ইন্সপেক্টরকে বলার পর কোনো ইনফরমেশন যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি ইন্সপেক্টরকে ঝুলায় দেব, আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাব।”
এর আগে সভায় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলাকার সন্ত্রাসীদের বিষয়ে থানায় তথ্য দিলে সেটি ফাঁস হয়ে যায়। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েন তথ্যদাতা। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এমন কথা বলেন।
নিজ বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যায় রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, “খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার বিকল্প নেই। কিন্তু জনগণের বড় অভিযোগ পুলিশের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতেই ওই মন্তব্য করেছিলাম।”
তিনি বলেন, “আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম, কেউ তথ্য ফাঁস করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কেউ ছাড় পাবে না।”
এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। তাতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সব সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করে।
আগের সংবাদ-
তথ্য ফাঁস করলে ইন্সপেক্টরকে ঝুলিয়ে দেব: খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার