Published : 06 Apr 2026, 02:48 PM
শরীয়তপুরে বিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্পের পাইপে এবং রাজবাড়ীতে রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শরীয়তপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাজরাসার গ্রামের চরপালং বালুরঘাট এলাকায় সোমবার সকাল ১০টায় এবং রাজবাড়ী শহরের পান্না চত্বরে সকাল পৌনে ১০টার দিকে এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মৃতরা হলেন- শরীয়তপুরের রোজিনা বেগম এবং রাজবাড়ীর ৬৫ বছর বয়সী সেলিনা আক্তার ঝর্ণা।
হাজরাসার গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমান বলেন, “গ্রামের কীর্তিনাশা নদীর পাড়ে কাসেম খান ও লোকমান নামে দুই ব্যক্তি ইরি ব্লকের পানি সেচের জন্য একটি বিদ্যুৎচালিত পানির পাম্প স্থাপন করেন। অভিযোগ রয়েছে, পাম্পটি যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বসানো হয়েছিল।
“সকালে রোজিনা বেগম স্বামীর বাড়ি থেকে একই এলাকার বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে পাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার ওড়না ঘূর্ণায়মান ভ্যান পাইপে পেঁচিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।”
খবর পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন বলে জানান মিজানুর।
রোজিনার ভাই আবুল হোসেন বেপারী বলেন, “ইরি ব্লকের পানি সেচ জন্য দিয়ে প্রতি বছর বিদ্যুৎচালিত মোটর পাস্প বসানো হয়। এ বছর নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে।”

পালং মডেল থানার ওসি তদন্ত আবির হোসেন বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে রাজবাড়ীতে নিহত সেলিনা আক্তার ঝর্ণা দৈনিক সমকালের বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রতিনিধি ও বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল মিয়ার মা।
সেলিনার মেয়ে জামাই কাজী হুমায়ুন কবির বলেন, সকালে পারিবারিক কাজে তার শাশুড়িসহ পরিবারের কয়েকজন রাজবাড়ী আদালতে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রিকশায় করে শহরের সালমা হোটেলে নাস্তা করতে যাওয়ার পথে পান্না চত্বরে চলন্ত রিকশার চাকার সঙ্গে তার গলার ওড়না পেঁচিয়ে যায়।
“এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।”
নিহতের লাশ রাজবাড়ী হাসপাতালে রাখা হয়েছে জানিয়ে রাজবাড়ী থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।