১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফল প্রকাশের দাবি: রাবির আরবি বিভাগে তালা, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’

“আমাদের দাবি ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Sep 2025, 04:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:16 PM

পরীক্ষার চার মাসেও ফলাফল প্রকাশ না হওয়ার প্রতিবাদে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বেলা দুপুরে বিভাগের শ্রেণিকক্ষ, অফিস ও সেমিনার লাইব্রেরিতে তালা ঝুলিয়ে (২০২০-২১) বর্ষের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। এ সময় নোটিশ বোর্ডে ‘ডিপার্টমেন্ট অব অর্ডিন্যান্স, ফরমার আরবি ডিপার্টমেন্ট’ লেখা ফেস্টুন ঝুলিয়ে দেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এর আগেও ২৫ অগাস্ট একই দাবিতে তারা বিভাগে তালা ঝুলিয়েছিলেন। পরে শিক্ষকদের আশ্বাসে তা খুলে দেন।

তাদের ভাষ্য, কর্তৃপক্ষ বারবার ‘অর্ডিন্যান্সের’ অজুহাত দিয়ে কালক্ষেপণ করছে। তাই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফল প্রকাশ না হওয়ায় আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। 

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “আমরা যখনই ফল প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাই, বিভাগীয় সভাপতি পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আবার পরীক্ষা কমিটির সভাপতি বলেন অর্ডিন্যান্সের কারণে ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না।

“চার মাস ধরে আমরা এ সমস্যায় ভুগছি। সামনে চাকরির পরীক্ষাগুলো আছে। অথচ বারবার অজুহাতে ফলাফল প্রকাশ পেছানো হচ্ছে। তাই এই আন্দোলন।”

আরেক শিক্ষার্থী মো. মাহাদী হাসান বলেন, “আমাদের দাবি ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

আরবি বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ বর্ষের ‘বিএআর-৪১০৪: সায়েন্স অব ট্রান্সলেশন’ কোর্সের নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসুদ জমা দেননি। একই কোর্সের অন্য শিক্ষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দীন তার অংশের নম্বর জমা দিলেও মাসুদের কারণে পুরো ফলাফল আটকে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি। 

পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, “একজন শিক্ষকের নম্বর না পাওয়ায় আমরা ফলাফল প্রকাশ করতে পারিনি। মঙ্গলবারই নম্বর জমা দেওয়ার কথা দিয়েছেন। নম্বর পেলেই দ্রুত ফল প্রকাশ করা হবে।”

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি। সকাল থেকে মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হবে।”