Published : 29 Jan 2026, 09:41 PM
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাটের জেলারের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ চাওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন।
কারাগার থেকে বেরিয়ে বুধবার সন্ধ্যার পর বাগেরহাট সদরের সাবেকডাঙ্গা গ্রামে বাড়িতে পৌঁছান তিনি। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারতের পর সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় এমন অভিযোগ করেন সাদ্দাম।
তবে ছাত্রলীগ নেতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন।
গত বছরের ৫ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পরদিন আদালতের নির্দেশে সাদ্দামকে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ২২ জুলাই ২০২৫ ‘প্রশাসনিক কারণে’ বাগেরহাট থেকে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানন্তর করা হয়।
তবে ‘বাগেরহাটের জেলার আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছেন। যদি, বাগেরহাটে থাকতে হয়, পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে।’ সাদ্দামের করা এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। বুধবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাদ্দাম এমন দাবি করেছিলেন।
ওইদিন সন্ধ্যার পর বাড়িতে পৌঁছে শ্বশুর, শ্যালকসহ স্থানীয়দের নিয়ে স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাদ্দাম। এ সময় তিনি দাবি করেন, “আমি কারাগারে ঢোকার পর থেকে, আগের থেকে আমার বাগেরহাটের সংসদ সদস্য তন্ময় ভাই (বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়) আমার পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিছেন। জেলে আমার পিসির টাকা, জামিনের টাকা, সম্পূর্ণ আমার ভাই ....।
নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে সাদ্দাম বলেন, “আমার স্ত্রী অনেক হতাশাগ্রস্ত ছিল। আমাকে তিনটে মাস সেলে রাখা হয়েছে, সেলবন্দি।”
তবে কারা কর্তৃপক্ষ সাদ্দামের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, সাদ্দাম শুরু থেকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। জেলে বিভিন্নজনকে গালাগাল এমনকি মারধরও করেছেন। নিরাপত্তার জন্য তাকে সেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে চলাচলটা সংরক্ষিত থাকে। তবে সেল কোনো শাস্তির জায়গা না।
সাদ্দামের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করে বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন সাংবাদিকদের বলেন, “তার আচারণের কারণেই তাকে যশোরে পাঠানো হয়। এখানে অন্য কোনো ঘটনা নেই। আর জেলার চাইলেই কাউকে অন্য জেলে স্থানন্তর করতে পারে না। এ ধরনের ভিত্তিহীন কথার আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
বাগেরহাট কারাগারের নথি অনুযায়ী, বন্দি অবস্থায় সাদ্দাম গত বছরের ১২ এপ্রিল একজন সেল ইনচার্জকে (বাদশা মিয়া) হুমকি দেন এবং গালাগাল করেন। পরে ৬ জুলাই অপর এক বন্দিকে মারধর করেন।
জেলার আল-মামুন বলেন, “কারারক্ষীদের হুমকি, অন্য বন্দিকে মারধরসহ একাধিকবার কারা অপরাধের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে (সাদ্দাম) যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
“বাগেরহাট কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি সবসময় আমাদের স্টাফদের এবং আশেপাশের বন্দিদের সঙ্গে উশৃঙ্খল আচরণ ও ভয়ভিতি দেখাতেন। এই ধরনের আচরণের মধ্যে তিনি ছিলেন।”
সাদ্দাম বাগেরহাট কারাগারে আসার পরদিন তার স্ত্রী, শ্বশুরসহ আত্মীয়রা এসে সাক্ষাৎ করেন। কারাগারে তার যথারীতি সাক্ষাৎ চালু ছিল দাবি করে তিনি বলেন, “একটা হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে তার পারিবারে।
“এটাকে কেন্দ্র করে তিনি এখন বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার এবং পাঁচ লাখ টাকার একটি অযৌক্তিক, অহেতুক, হয়রানিমূলক মিথ্যা ভিত্তিহীন কথা বলে বেড়াচ্ছেন। এমন ঘটে থাকলে, তিনি (সাদ্দাম) যখন যশোর গেছেন, তখনই বলতে পারতেন।”
এর আগে ২৩ জানুয়ারি সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালির (২২) ঝুলন্ত ও তার নয় মাস বয়সি সন্তান সেজাদ হাসানের (নাজিফ) নিথর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে স্বজন ও পরিবারের দাবি ছিল, ছেলেকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন কানিজ।
পরদিন বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মৃতদেহ গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানকে শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম।
এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে ব্যাপক সমালোচনা হয়। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে সাদ্দামকে কেনো প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
'স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে জামিনটা হলো'