০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

‘আলোকিত লালমনিরহাট’ হবে দেশের সামাজিক রোল মডেল: ত্রাণমন্ত্রী

এ কার্যক্রম পরিদর্শন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৯ নভেম্বর লালমনিরহাট সফর করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Nov 2026, 10:36 AM

Updated : 08 Nov 2026, 10:36 AM

সামাজিক আন্দোলন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ দেশের জন্য একটি সামাজিক রোল মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

এ কার্যক্রম পরিদর্শন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৯ নভেম্বর লালমনিরহাট সফর করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন “এই আন্দোলনের মাধ্যমে লালমনিরহাট জেলাকে মাদক, জুয়া, ক্যাসিনো, যৌতুক ও বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হবে। এর মাধ্যমে লালমনিরহাটকে সমগ্র দেশের জন্য একটি সামাজিক রোল মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করানোর লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।”

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাহেব ডাঙা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির পাটগ্রাম উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, ইমাম, ছাত্র, সাংবাদিক, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা একযোগে যুক্ত রয়েছেন।”

কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি এই নবযাত্রার উদ্বোধন করেছিলেন। উদ্বোধন করার ঠিক চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী সশরীরে মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন দেখতে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে এমন কোনো কর্মসূচি বা আন্দোলন নেই যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান উভয়েই সরাসরি যুক্ত থাকেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন, যা দেশের অন্যান্য জেলার সংসদ সদস্যদের দেখিয়ে সারা দেশে কার্যকর করা হবে।

আঞ্চলিক উন্নয়ন ও নদীর অধিকার রক্ষায় ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলনের সাফল্য উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ দেশ ও বিদেশে ব্যাপকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বর্তমানে চীন, নেদারল্যান্ডস ও ভারত যৌথভাবে এই প্রকল্পে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আন্তরিকতায় ২০২৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কেবল বড় ভবন বা বিদ্যালয় গড়ে তুললেই শিক্ষার উদ্দেশ্য সফল হয় না, যদি না সেই পরিবেশ মাদকমুক্ত থাকে। বাহ্যিক পোশাকের চেয়ে পোশাকের ভেতরের চরিত্রের সৌন্দর্যই আসল।”

তিনি উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবীদের নীতিবোধ ও সঠিক আদর্শ নিয়ে সমাজ পুনর্গঠনে কাজ করার দিকনির্দেশনা দেন।

পাটগ্রামের সাহেব ডাঙা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক এবং পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার।

সভায় পাটগ্রাম উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ৮১টি ওয়ার্ড থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্ব ও কার্যপ্রণালী নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।