‘ইসির পরীক্ষা নিতে’ সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন
আমরা নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নির্বাচনে এসেছি, বলেন গাজীপুরে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হবে আশা করছেন চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষা নিতেই এই ভোটে অংশ নিচ্ছেন তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব এ কথা বলেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে যে পাঁচটি সিটি করপোরেশরে ভোটের আয়োজন করা হয়েছে, তার সবগুলোতে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।
গাজী আতাউর বলেন, “বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি গণমানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। আজকে নির্বাচন কমিশন বলছে তারা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে চায়। আমরা নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নির্বাচনে এসেছি। আমরা নির্বাচন করছি মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অংশ হিসেবে।”
ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন বর্জনকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতা বলেন, “আমরা মনে করছি বিনা চ্যালেঞ্জে কোনো নির্বাচন ছেড়ে দেওয়াটা আমাদের জন্য বোকামি হবে।
“আমরা মনে করছি নির্বাচন কমিশন যেহেতু সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে চায়, আমরা দেখতে চাই গাজীপুর সিটির নির্বাচন তারা কেমন করে।
“শুধু গাজীপুর নয়, পাঁচটি সিটিতেই আমাদের প্রার্থী থাকবে। প্রত্যেকেই আমরা বিজয়ের জন্য নির্বাচন করব।”
রংপুর সিটি নির্বাচন অনেকটা সুষ্ঠু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “মানুষ ভোট দিতে পেরেছে। এজন্য আমরা আশাবাদী গাজীপুর সিটি নির্বাচনও ভালো হবে।”
রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুরোধে আচরণবিধি মেনে চলছেন জানিয়ে আতাউর বলেন, “আমরা আইন মানার লোক। অন্যান্য প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন; কিন্তু তাদের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।”
জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম থেকে সরে আসার পর স্থানীয় নির্বাচন কেন ব্যালটে হচ্ছে না, সে প্রশ্নও রাখেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা।
তিনি বলেন, “আমরা ইভিএমের পক্ষে নই। এতে মানুষের বিড়ম্বনা হয়, সংকট সৃষ্টি হয়। মানুষের মধ্যে এখনও শঙ্কা আছে, তারা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবে কি না, ভোট দিলে সঠিকভাবে গণনা হবে কি না।
“নির্বাচন কমিশন বলেছে, প্রত্যেক সেন্টারে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। গাইবান্ধা উপ-নির্বাচনে সিসিটিভি ছিল; কিন্তু সেখানে যারা ভোট নিয়েছেন তারা অনিয়ম করেছেন। নির্বাচনী কর্মকর্তারাও অনিয়ম করেছেন।”
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, গাজীপুর মহানগর কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফাইজুদ্দিন, সিটি নির্বাচনে দলের প্রধান সমন্বয়ক আবু হানিফ সরকারও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
