নীলফামারীতে ট্রেন থামানোর দাবিতে অবরোধ, আটকা দুই ট্রেন
বন্ধ স্টেশনগুলো চালু ও চিলাহাটি-পার্বতীপুর পথে লোকাল ট্রেন চালুর দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল রেলস্টেশনে ট্রেন থামানোর দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে স্টেশন এলাকায় ট্রেন আটকে তারা অবরোধ শুরু করেন। এতে প্রায় চার ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
পরে ট্রেন থামানোর আশ্বাস পেয়ে দুপুর ১টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন বলে জানিয়েছেন নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনও মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।
অবরোধের কারণে রকেট মেইল ট্রেনটি দারোয়ানি টেক্সটাইল এলাকায় এবং চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস নীলফামারী স্টেশনে আটকা পড়ে।
ইউএনও মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। ট্রেন থামানোর আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন। এখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দারোয়ানি টেক্সটাইল ও খয়রাতনগর স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন থামে না। এতে যাত্রীদের দূরের স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। ব্যবসায়ীদেরও পণ্য পরিবহনে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষও দারোয়ানি স্টেশন ব্যবহার করেন। এখানে ট্রেন থামলে যাতায়াত সহজ হবে, ব্যবসায়ীদের খরচও কমবে।
আরেক বাসিন্দা রহিদুল আলম বলেন, চিলাহাটি থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ১১টি স্টেশনের মধ্যে ছয়টির কার্যক্রম অনেক দিন ধরে বন্ধ। এতে ওই এলাকার মানুষকে দূরের স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে।
বন্ধ স্টেশনগুলোতে মাদক ও জুয়ার আসরও বসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রহিদুল আলম বলেন, বন্ধ স্টেশনগুলো চালুর পাশাপাশি চিলাহাটি থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত একটি লোকাল ট্রেন চালু করা দরকার। এতে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি পার্বতীপুর থেকে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনাগামী ট্রেনে ওঠাও সুবিধাজনক হবে।
ইউএনও মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, দারোয়ানি ও খয়রাতনগর স্টেশনে কোন কোন ট্রেন থামানো যায়, তা নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাকিব হাসান বলেন, বন্ধ স্টেশনগুলোর অবস্থা দেখা হয়েছে। সেগুলো সংস্কার ও চালুর বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত হলে সংস্কার ও লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে স্টেশনগুলো চালু করা হবে।
