১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রফি বিতরণ না করে ভাঙলেন ইউএনও, আলীকদমে উত্তেজনা

ইউএনওর অপসারণ দাবিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মিছিল হয়েছে।

ট্রফি বিতরণ না করে ভাঙলেন ইউএনও, আলীকদমে উত্তেজনা

ভিডিওতে দেখা যায়, খেলার ট্রফি আছড়ে ভাঙছেন আলীকদমের ইউএনও মেহরুবা ইসলাম।

বান্দরবান প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Sep 2022, 08:27 PM

Updated : 24 Sep 2022, 08:27 PM

ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলায় বিজয়ী ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীর মধ্যে পুরস্কারের ট্রফি বিতরণ না করে প্রকাশ্যে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

শুক্রবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ইউএনও মেহরুবা ইসলামের পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চ থেকে ট্রফি ভাঙার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।

এ নিয়ে উপজেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার বিকালে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ইউএনওর অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে শনিবার বিকালে ইউএনও মেহরুবা ইসলামকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

Image

ভিডিওতে দেখা যায়, খেলার ট্রফি আছড়ে ভাঙছেন আলীকদমের ইউএনও মেহরুবা ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, শুক্রবার বিকালে উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের মাংতাই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আবাসিক স্বাধীন যুব সমাজের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টে ‘আবাসিক জুনিয়র একাদশ’ বনাম ‘রেপারপাড়া বাজার একাদশ’ দলের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনও মেহরুবা ইসলাম।

খেলায় দুই দল প্রথমে ৩৫ মিনিট করে ৭০ মিনিট খেলে। এতে ড্র হলে খেলা ট্রাইবেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ‘আবাসিক জুনিয়র একাদশ’ তিনটি গোল করে। বিপরীতে ‘রেপারপাড়া একাদশ’ একটা গোল পায়। নিয়ম অনুযায়ী, ‘আবাসিক জুনিয়র একাদশ’ চ্যাম্পিয়ন এবং ‘রেপারপাড়া একাদশ’ রানার আপ হয়।

খেলার ফলাফল নিয়ে রানার আপ দল ও তাদের সমর্থকরা আপত্তি তুলে। এর মধ্যেই পুরস্কার বিতরণের উদ্যোগ নেয় আয়োজক কর্তৃপক্ষ। 

ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মেহরুবা ইসলাম বিরোধের কথা উল্লেখ করে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, তিনি প্রত্যেক খেলোয়ারকে মেডেলগুলো দিয়ে যাবেন। ট্রফিগুলো আমানত হিসেবে থাকবে। আরেকটি খেলা হলে সেগুলো বিতরণ করা হবে।

এ নিয়ে তিনি উপস্থিত দর্শকদের মতামত জানতে চান। তখন অনেককেই ‘না, না’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায়।   

এরপর ইউএনও বলেন, “তুচ্ছ ব্যাপার এটা। যদি ট্রফি না থাকত তাহলে আমরা খেলতাম না? জয় বিজয় খেলায় থাকবেই।… আমি এখন ট্রফি ভেঙে খেলাটা শুরু করব।”

এরপরই ইউএনওকে টেবিলের উপর পাশাপাশি রাখা ট্রফি দুটি আছড়ে ভেঙে ফেলতে দেখা যায়।

Image

ট্রফি ভাঙার প্রতিবাদে ও ইউএনওর অপসারণ দাবিতে আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল।

এ ঘটনার পর আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম তার ফেইসবুক আইডি থেকে ইউএনওকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করার হুমকি দেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শনিবার চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমি খেলায় উপস্থিত ছিলাম। ইউএনওর বক্তব্যকালে কেউ কেউ ‘ব্যাড সাউন্ড’ দেয়। বলা হয়, আবারও খেলতে হবে। এতে সাময়িক উত্তেজনা হয়।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খেলার আয়োজক সংগঠন ‘আবাসিক স্বাধীন যুব সমাজ’ এর সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, “ট্রফি ভাঙার বিষয়ে আমাদের কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচি নেই। যারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তাদের সঙ্গে আমাদের একাত্মতা নেই। এ বিষয়ে আমরা কোথাও অভিযোগও দেইনি।”

এদিকে, ট্রফি ভাঙার প্রতিবাদে ইউএনওর অপসারণ দাবি জানিয়ে শনিবার বিকাল ৪টায় উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ‘আলীকদম উপজেলা সর্বসাধারণ’ ব্যনারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পরে বিক্ষোভ সমাবেশে চেয়ারম্যান বলেন, “ইউএনওর খেলার ট্রফি ভাঙা ঠিক হয়নি। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে আলীকদম অচল হওয়ার আশঙ্কা আছে।”